মা-মেয়েকে হত্যার পর ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
রাজধানীর কেরানীগঞ্জে মা ও মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার পর টানা ২১ দিন তাদের লাশ নিজ ফ্ল্যাটে লুকিয়ে রেখে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করার লোমহর্ষক তথ্য সামনে এসেছে। গ্রেপ্তারের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত এক শিক্ষিকা।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে স্কুলছাত্রী জোবাইদা রহমান ফাতেমা (১৪) ও তার মা রোকেয়া রহমানের (৩২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফ্ল্যাটটি নুসরাত মীম (২৪) নামের এক শিক্ষিকার।
ঘটনার পর নুসরাত মীম, তার স্বামী হুমায়ুন মিয়া (২৮) এবং নুসরাতের ১৫ ও ১১ বছর বয়সী দুই বোনকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে নুসরাত ও তার ১৫ বছর বয়সী বোনের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম জানান, নুসরাত মীম একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নেন। ওই ঋণের জামিনদার ছিলেন তার শিক্ষার্থী জোবাইদার মা রোকেয়া রহমান। সময়মতো ঋণের কিস্তি পরিশোধ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নুসরাত ও রোকেয়ার মধ্যে বিরোধ চলছিল।
তিনি আরও জানান, গত ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে প্রাইভেট পড়তে নুসরাতের বাসায় গেলে জোবাইদা ফাতেমার সঙ্গে নুসরাতের ছোট বোনের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওই কিশোরী গলা চেপে ফাতেমাকে হত্যা করে। পরে ঘটনাটি আড়াল করতে ফাতেমার পোশাক পরে বাসা থেকে বের হয় সে, যাতে সিসিটিভি ফুটেজে মনে হয় ফাতেমা নিজেই চলে গেছে।
ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর ফাতেমা অসুস্থ বলে রোকেয়াকে ফোন করেন নুসরাত। মেয়েকে নিতে বাসায় এলে পেছন থেকে ওড়না পেঁচিয়ে রোকেয়ার গলা চেপে ধরেন তিনি। পরে দুই বোন মিলে শ্বাসরোধে রোকেয়াকে হত্যা করেন।
হত্যার পর রোকেয়ার লাশ শোবার ঘরের বক্স খাটের নিচে এবং ফাতেমার লাশ শৌচাগারের ফলস সিলিংয়ের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। অভিযুক্তরা প্রায় ২১ দিন ধরে ওই ফ্ল্যাটেই স্বাভাবিকভাবে বসবাস করছিলেন।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুসরাত মীম ও তার নাবালিকা বোন হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। নাবালিকা হওয়ায় ছোট বোনকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।