আইজিপি বাহারুলের অপসারণে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:২৫ পিএম
বিএনপির সাবেক এমপি ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাসিরউদ্দিন আহাম্মেদ পিন্টুর মৃত্যুর ঘটনায় বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমকে দায়ী করে তার পরিবার ও অনুসারীরা দ্রুত অপসারণ এবং বিচারের দাবি তুলেছেন। এ দাবিতে তারা সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) শাহবাগ মোড়ে ‘শহীদ পিন্টু স্মৃতি পরিষদ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এই আল্টিমেটাম ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের সভাপতি রফিক আহমেদ ডলার বলেন, “৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আইজিপি বাহারুল আলমকে অপসারণ করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। নাহলে দেশজুড়ে কঠোর আন্দোলন শুরু হবে।”
বক্তারা অভিযোগ করেন, পিলখানা বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মামলায় তৎকালীন গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে বাহারুল আলম রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পিন্টুকে মামলায় জড়ানোর ভূমিকায় ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইজিপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নব্বইয়ের দশকে তুখোড় ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত পিন্টু বিএনপির রাজপথের এক সক্রিয় নেতৃত্ব ছিলেন। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মামলায় ২০১৩ সালে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল অসুস্থ অবস্থায় তাকে হঠাৎই ঢাকা থেকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। পরিবার দাবি করে—সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় ৩ মে কারাগারেই তার মৃত্যু হয়।
সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গঠিত ‘জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন’-এর প্রতিবেদনে নতুন করে উঠে আসে আইজিপি বাহারুল আলমের নাম। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়—পিলখানা ঘটনার পর প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত না করে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা সাজানোর প্রক্রিয়ায় তিনি যুক্ত ছিলেন। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই পিন্টুর পরিবার ও সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়।
শাহবাগের সমাবেশে প্ল্যাকার্ড-ব্যানার হাতে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেন পিন্টুর অনুসারীরা। তাদের অভিযোগ, পিন্টুর জনপ্রিয়তা ঠেকাতেই তাকে টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছিল। তারা বলেন, সত্য উদঘাটন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইজিপি বাহারুলকে সরানো এখন সময়ের দাবি।
৪৮ ঘণ্টার এই আল্টিমেটাম ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে—সরকার শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই নজর।