সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকৃত ঘটনা জানাল দলটি

৩১ আ.লীগ নেতাকে ছাড়ানোর সুপারিশের দাবি এসআইয়ের, ‘নিরীহদের বাঁচাতে যাওয়ায়’ অপপ্রচার বলছে জামায়াত

মো. সাব্বির মামুন

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম

কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় ভাঙচুরের মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) থেকে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাসহ ৩১ জনের নাম বাদ দিতে দলের নেতারা সুপারিশ করেছেন বলে দাবি করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। তবে জামায়াতের দাবি, নিরীহ মানুষকে পুলিশের হয়রানি ও ‘বাণিজ্য’ থেকে বাঁচাতে যাওয়ায় ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে ওই পুলিশ কর্মকর্তা এমন মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজিবপুর উপজেলা জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের মুখপাত্র মো. জাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশের ওই দাবির কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়।

জানা গেছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘রাজিবপুর লাইভ’–এ প্রচারিত একটি ভিডিওতে রাজিবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা একটি দাবি করেন। তিনি বলেন, জামায়াতের কার্যালয় ভাঙচুর মামলার চার্জশিট থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৩১ জন নেতার নাম বাদ দিতে সুপারিশ করেছিলেন জামায়াতের উপজেলা আমির ও যুব বিভাগের সভাপতি।

এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াত প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে। সেখানে বলা হয়, গত ৫ আগস্টের পর রাজিবপুরে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি করে জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু পুলিশ প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে সাধারণ ও নিরীহ কৃষক-দিনমজুরদের ধরে এনে জোরপূর্বক আসামি করতে থাকে।

উদাহরণ হিসেবে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিবেরডাঙ্গীর সাধারণ কৃষক আবু বক্করকে অন্যায়ভাবে আটকে রেখে ‘উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক’ সাজিয়ে পুলিশ চালান দিয়েছে। পুলিশের এই ‘বাণিজ্যের’ বিরুদ্ধে জামায়াত নেতারা থানায় গিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেন, যেন কোনো নিরীহ মানুষকে এই মামলায় হয়রানি না করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও অভিযোগ করা হয়, তদন্ত কর্মকর্তা এসআই গোলাম মোস্তফা জামায়াত নেতাদের কথায় কর্ণপাত না করে নিজের ইচ্ছেমতো মূল আসামিদের আড়াল করেন। আর্থিক বা ব্যক্তিগত সুবিধার্থে তিনি আসামিদের তালিকা থেকে নাম কাটা শুরু করেন। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি মোখলেসুর রহমান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টি ব্যক্তিগত শত্রুতা হিসেবে নেন এবং জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

বিজ্ঞপ্তির শেষে জামায়াতে ইসলামী স্পষ্ট করে জানায়, তারা কোনো আওয়ামী লীগ বা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকে রেহাই দেওয়ার সুপারিশ করেনি; বরং সাধারণ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেই দাবি জানিয়েছিল। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার মুখে এমন বক্তব্য ‘পেশাদারির চরম লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করে দলটি সাধারণ মানুষকে এই অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495