ওসির সামনেই ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করলেন যুবদল নেতা!
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৫ এএম
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা হাটের ইজারা কেন্দ্র করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত রাকিবুর রহমান রাজা নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। এলাকাবাসীর দাবি, তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল অজিজ-এর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আগামী এক বছরের জন্য চন্দ্রপুর তুলাধূনা হাটের ইজারা নিতে ওবায়দুল ইসলাম তপু ও রাকিবুর রহমান রাজা দরপত্র জমা দেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে হাট-বাজার ইজারা সংক্রান্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ২১ হাজার ৭১৩ টাকা চুক্তিমূল্যে তুলাধূনা বাজারের ইজারা পান ওবায়দুল ইসলাম তপু।
ইজারা না পেয়ে রাজা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সভা শেষে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ অন্যদের সামনে তপুর কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন তিনি। সরকারি দপ্তরের সামনে এমন ঘটনায় উপস্থিতদের মধ্যে বিস্ময় ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী ওবায়দুল ইসলাম তপু বলেন, হাটের ইজারা না পেয়ে সবার সামনে রাজা তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। তিনি এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন বলেও জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাকিবুর রহমান রাজা। তার দাবি, এক বছর আগে তপুর কাছে তার পাঁচ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে, সেই টাকা ফেরত চেয়েছেন মাত্র। পুলিশ প্রশাসন ও এত মানুষের সামনে চাঁদা দাবি করার প্রশ্নই ওঠে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুজ্জামান সরকার বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরাসরি চাঁদা দাবির মতো কোনো ঘটনা তিনি দেখেননি। তবে রাজা ক্ষোভের বশে তপুকে ‘এলাকায় আয়, তোকে দেখে নেব’—এমন মন্তব্য করেছেন বলে জানান। তপু নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা ও অভিযোগের সত্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। লিখিত অভিযোগ দায়ের হলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।