ঠিকাদারকে তুলে নেওয়ার হুমকি, ছাত্রদল নেতার কলরেকর্ড ভাইরাল
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে নির্মাণাধীন একটি সেতু দিয়ে গাড়ি চলাচল করতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঠিকাদারের ম্যানেজারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও এলাকা থেকে তুলে নেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল মাহমুদ মোস্তাকের বিরুদ্ধে।
ঘটনার একটি অডিও কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে প্রায় এক মিনিট ত্রিশ সেকেন্ডের ওই অডিও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ পায়। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি বহু মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি নিয়ে উপজেলাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ভাইরাল হওয়া অডিওতে শোনা যায়, ছাত্রদল নেতা মোস্তাক আক্রমণাত্মক ভাষায় ঠিকাদারের ম্যানেজারকে সেতু দিয়ে গাড়ি পার করার নির্দেশ দিচ্ছেন। এক পর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায়, “সেতু ভাঙলেও গাড়ি যাইব, গাড়ি ছাড়।”
ঠিকাদারের ম্যানেজার কাজ চলমান থাকায় সেতু দিয়ে গাড়ি চলাচলে অপারগতার কথা জানালে মোস্তাক তাকে এলাকা থেকে “তুলে নেওয়া” এবং “দেখে নেওয়ার” হুমকি দেন বলে অডিওতে শোনা যায়। তিনি আরও বলেন, “তুই আমার এলাকায় থাকস, আমার এলাকায় কাজ চলতাছে না কি চলতাছে হেইডা আমি দেখতাম না। গাড়ি ছাড়বি, না হয় তোরে একবারে ঘাড় ধইরা নিয়া যামু।”
অন্যপ্রান্তে থাকা ঠিকাদারের ম্যানেজার জানান, নির্মাণাধীন সেতু দিয়ে গাড়ি চলাচল করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং সেতুর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে তার এই যুক্তি উপেক্ষা করে বারবার গালিগালাজ ও শারীরিক লাঞ্ছনার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে উন্নয়নমূলক কাজে বাধা দেওয়ার সমালোচনা করছেন।
এ বিষয়ে ঠিকাদারের ম্যানেজার রাকিব বলেন, তারা সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ করতে এসেছেন। শ্রমিক ও কর্মীদের নিয়ে পরিবার-পরিজন ছেড়ে কাজ করতে এসে এমন হুমকি ও গালিগালাজে তারা মানসিকভাবে কষ্ট পাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে এ ধরনের চাপ অব্যাহত থাকলে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। বিষয়টি ঠিকাদারকে জানানো হয়েছে বলেও জানান রাকিব।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের বাধাঘাট সেতু দিয়ে গাড়ি পারাপারকে কেন্দ্র করেই এই ঘটনা ঘটে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আল মাহমুদ মোস্তাক বলেন, তিনি এলাকার এক ব্যক্তির গাড়ি পারাপারের বিষয়ে কথা বলেছিলেন। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একজন দরিদ্র মানুষ এবং প্রয়োজনে ধান আনার জন্য গাড়ি পার করার অনুরোধ করা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ম্যানেজার প্রথমে অস্বীকৃতি জানিয়ে পরে টাকা দাবি করেন। তবে পুরো কথোপকথনের একটি ক্ষুদ্র অংশ কেটে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেল জানান, বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে দেখে তিনি মোস্তাকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনে তাকে পাওয়া যায়নি।