কুড়িগ্রামের দুই উপজেলায় জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ, জনজীবনে চরম ভোগান্তি
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৭ পিএম
কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলায় টানা দুই সপ্তাহ ধরে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। দুই উপজেলা মিলিয়ে মাত্র একটি ফিলিং স্টেশন থাকলেও তেল সংকট ও ফুয়েল কার্ড সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সেটিও বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় পরিবহন চালকদের অভিযোগ, গত ১০ এপ্রিলের পর থেকে রৌমারীর একমাত্র ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশন থেকে আর কোনো জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না। পাম্পে গেলে তাদের জানানো হচ্ছে, তেল নেই। কখনো আবার বলা হচ্ছে ফুয়েল কার্ড বিতরণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তেল সরবরাহ করা হবে না।
রাজিবপুর উপজেলায় কোনো ফিলিং স্টেশন না থাকায় সেখানকার মানুষ রৌমারীর ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তেল না পাওয়ায় দুই উপজেলার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে পরিবহন খাতের সঙ্গে জড়িতরা বিপাকে পড়েছেন।
তেল সংকটের কারণে দুই উপজেলার সড়কে মোটরসাইকেলসহ পেট্রল ও অকটেনচালিত যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অনেকেই এখন রিকশা ও ভ্যানের ওপর নির্ভর করছেন। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা, যারা যাতায়াতের বিকল্প হিসেবে রিকশা-ভ্যান ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আবু সাঈদ বলেন, তেল না থাকায় এলাকার পরিবহন ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। দ্রুত যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম মোটরসাইকেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।
এদিকে ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক শাহজামাল জানান, এপ্রিল মাসে একবার তেল আনা ও বিক্রি করা হয়েছিল। পরে নতুন বরাদ্দ পাওয়া গেলেও ফুয়েল কার্ড বিতরণ শেষ না হওয়ায় আপাতত তেল আনা হয়নি। তিনি জানান, আগামী সোমবার তেল আনা হতে পারে এবং মঙ্গলবার থেকে পুনরায় বিক্রি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তেল বিক্রির সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, অনেকেই প্রভাব খাটিয়ে আগে তেল নিতে চান, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, তেল না থাকায় সরবরাহ বন্ধ রয়েছে এবং তেল এলে বিক্রি শুরু হবে। ফুয়েল কার্ড ইস্যু প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এর সঙ্গে তেল বিক্রি বন্ধ থাকার সরাসরি সম্পর্ক নেই।