৬০ লাখ টাকার চোরাই কাপড়সহ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গ্রেপ্তার
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
নোয়াখালীর হাতিয়া ও সুবর্ণচর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকা মূল্যের চোরাই কাপড় উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় চরবাটা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপপরিদর্শক মহিউদ্দিন রাজু। তিনি জানান, সোমবার পৃথক অভিযানে হাতিয়ার হরণী ইউনিয়নের বয়ারচরের আজিম নগর টিনের মসজিদ এলাকা এবং সুবর্ণচরের চরমজিদ ভূঞারহাট বাজার থেকে এসব কাপড় উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল রাতে কলম্বিয়া অ্যাপারেলস লিমিটেড আমদানিকৃত ১৬৩টি কাপড়ের বান্ডিল চট্টগ্রাম বন্দর থেকে একটি কাভার্ডভ্যানে তোলা হয়। এসব কাপড় গাজীপুর চৌরাস্তা পৌঁছানোর কথা থাকলেও ২৫ এপ্রিল গভীর রাতে চালকের যোগসাজশে সেগুলো আত্মসাৎ করা হয়।
পরে কাভার্ডভ্যান চালক সুমনের সহায়তায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবুল বাশার চক্র কাপড়গুলো নোয়াখালীর হাতিয়া ও সুবর্ণচরে নিয়ে যায়। সেখানে ইব্রাহীম খলিল ও সাদ্দাম হোসেনের সহযোগিতায় কাপড় দুটি স্থানে ভাগ করে রাখা হয়। একাংশ হরণী ইউনিয়নের একটি ঘরে এবং অপর অংশ সুবর্ণচরের ভূঞারহাট বাজারে নুরুল হুদার গোডাউনে সংরক্ষণ করা হয়।
এ ঘটনায় ২৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের হালিশহর থানায় মামলা দায়েরের পর তদন্তে নামে ডিবি পুলিশ। মামলার সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে চোরাইকৃত কাপড়সহ আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা ছাড়া এত বড় পরিমাণ কাপড় এভাবে পরিবহন ও সংরক্ষণ সম্ভব নয়। তারা এ ঘটনায় আরও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ইব্রাহীম খলিল দাবি করেন, তিনি শুধু পরিচিত একজনের অনুরোধে ঘর ভাড়া দিতে সহায়তা করেছেন, চোরাই কাপড়ের বিষয়ে জানতেন না। একইভাবে সাদ্দাম হোসেন ও নুরুল হুদা নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।
ডিবি জানায়, উদ্ধার হওয়া কাপড়ের মধ্যে হরণী ইউনিয়ন থেকে ৬৭টি এবং ভূঞারহাট বাজার থেকে ৯৬টি বান্ডিল পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তারকৃত আবুল বাশারকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।