জবিতে শিবিরের ভিপি প্রার্থীর স্ত্রীকে হেনস্তা শেষে পুলিশে দিল ছাত্রদল নেতাকর্মীরা!
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলামের স্ত্রী মাহিমা আক্তারকে হেনস্তা ও পরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। যদিও পরে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মাহিমা আক্তার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাহিমা আক্তার ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছিলেন। সে সময় তিনি হিজাব ও নিকাব পরিহিত ছিলেন। এ অবস্থায় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তার পরিচয় জানতে চেয়ে নিকাব ও মাস্ক খুলতে বলেন বলে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনাস্থলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি কাজী জিয়াউদ্দীন বাসিত, শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসলাম, বর্তমান সদস্য সচিব সামছুল আরেফিনসহ একাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে তারা পুলিশের কাভার্ড ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী মাহিমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান করছিলেন এবং তার সঙ্গে একজন আত্মীয়ও ছিলেন। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে হেনস্তা করেন এবং হিজাব ও মাস্ক খুলতে চাপ দেন।
এ বিষয়ে ছাত্রশিবির শাখার সভাপতি ও ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, মাহিমা আক্তার তার স্ত্রী এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি তাদের প্যানেলের পক্ষে বাইরে কাজ করছিলেন। সকালে গেটের বাইরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধাক্কাধাক্কি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেখা যায় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে ‘মব’ পরিস্থিতি তৈরি করেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক জানান, বিষয়টি জানার পর প্রক্টরিয়াল বডি হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
অন্যদিকে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সামছুল আরেফিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নারী হেনস্তার কোনো ঘটনা ঘটেনি। অবৈধ পরিচয় দিয়ে তিনজন বহিরাগত নারী ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে প্রক্টরিয়াল বডিকে জানানো হয়। পরিচয়পত্র দেখাতে না পারায় পুলিশ তাদের নিয়ে যায়।