হোস্টেলে সমকামিতা: গে-কমিটির প্রধানসহ ৪ মেডিকেল শিক্ষার্থী ধরা
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
রাজধানীর সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে সমকামিতায় জড়িত থাকার অভিযোগে চার শিক্ষার্থীর সিট বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। একই ঘটনায় এক বহিরাগতসহ পাঁচজনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হলে তারা ১৫ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করেন বলে জানা গেছে। বহিরাগত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত চার শিক্ষার্থী হলেন- আহসানুল ইসলাম চৌধুরী, মহিবুর রহমান নয়ন, রাব্বি হোসেন ওরফে আরিয়ান শাহ রাব্বি এবং শাহরিয়ার পলক।
জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল রাতে কলেজের মসজিদসংলগ্ন গলি থেকে শাহরিয়ার পলককে এক বহিরাগত ব্যক্তির সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ক্যাম্পাসে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য দেন। এর মধ্যে আরিয়ান রাব্বি, নয়ন ও আহসানুল ইসলামের নাম উঠে আসে।
পরবর্তীতে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের কাফরুল থানায় হস্তান্তর করে। একই দিন জরুরি একাডেমিক কাউন্সিল সভায় তাদের ছাত্রাবাসের সিট সাময়িকভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
২৩ এপ্রিল হোস্টেল সুপার ও আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. মকছেদ আলী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমকামিতায় জড়িত থাকার সন্দেহে শিক্ষার্থীদের থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের আবাসিক সিট বাতিল করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন থেকে বিভিন্ন আপত্তিকর তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া একাধিক গোপন গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, তারা হোস্টেলে অবস্থানরত অন্য শিক্ষার্থীদেরও এমন কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করতেন। অভিযুক্তদের একজনের কক্ষ থেকে বিভিন্ন আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
এ ঘটনায় আটক এক শিক্ষার্থী গুরুতর রোগে আক্রান্ত বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ওই শিক্ষক। জিজ্ঞাসাবাদে আরও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে বলেও জানা গেছে।
সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. রাশিদুজ্জামান খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ইতোমধ্যে তারা সাজা ভোগ শেষ করেছেন। জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের আবাসিক সিট বাতিল করা হয়েছে, তবে ছাত্রত্ব বহাল থাকবে।