নিয়োগ ঠেকাতে ইবির বিভাগীয় সভাপতিকে অপহরণ ছাত্রদল আহবায়কের

মফস্বল সংবাদ ডেস্কক

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রভাষক নিয়োগ বোর্ড বন্ধ করতে বিভাগের সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম জুয়েলকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিলও করেন।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে ঝিনাইদহে নিজ বাসভবনের সামনে থেকে মোটরসাইকেলে করে ওই শিক্ষককে তুলে নেওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, নিয়োগ বোর্ডে যোগ দিতে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তাকে একটি মোটরসাইকেলে উঠিয়ে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, ওইদিন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে প্রভাষক নিয়োগের নির্বাচনী বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সকাল আটটার দিকে বিভাগের সভাপতি ঝিনাইদহের বাসা থেকে ক্যাম্পাসে আসার উদ্দেশ্যে রওনা হলে ছাত্রদল আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাকে মোটরসাইকেলে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

নির্ধারিত সময় সকাল ১০টায় নিয়োগ বোর্ড শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিভাগের সভাপতি উপস্থিত না থাকায় এক ঘণ্টা বিলম্বে বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়। ইতোমধ্যে লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে এবং দুপুরের পর মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ২১ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই শিক্ষক বোর্ডে উপস্থিত হননি। তবে সাহেদ আহম্মেদ দাবি করেন, তিনি শিক্ষককে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন।

শরিফুল ইসলামের পরিবার জানায়, সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে বোর্ডে উপস্থিত থাকার জন্য একাধিকবার ফোন দেওয়া হচ্ছিল। অসুস্থ থাকার কথা জানালেও বারবার কল আসায় তিনি ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে বাসা থেকে বের হন। বাসার নিচে মোটরসাইকেলের শব্দ শুনে তারা ভেবেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে গাড়ি পাঠানো হয়েছে। পরে জানতে পারেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িচালক তাকে নিতে আসছেন, যা সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তোলে।

অভিযুক্ত ছাত্রদল আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার অস্ত্রের মুখে দ্রুত নিয়োগ বোর্ড করাতে চাপ দিচ্ছেন এবং এর আগেও সভাপতিকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি নিজেই ফোন করলে তাকে নিরাপদে নিয়ে যান এবং পরে বাড়িতে পৌঁছে দেন বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, সকালে তিনি সভাপতিকে ফোন করলে অসুস্থতার কথা জানান। তাকে কোনো ধরনের হুমকি দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, সভাপতি নিজেই অসুস্থতার কারণে আসতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। নিরাপত্তার প্রয়োজন হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা নিত। অপহরণের বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। নিয়োগ বোর্ডের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে বলেও জানান তিনি।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495