বেগম রোকেয়াকে 'মুরতাদ ও কাফের' বললেন রাবি শিক্ষক

মফস্বল সংবাদ ডেস্কক

প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:২৩ এএম

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নারী আন্দোলনের অগ্রদূত বেগম রোকেয়াকে ‘মুরতাদ’ ও ‘কাফের’ বলে উল্লেখ করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।

তিনি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন ‘আজ মুরতাদ কাফির বেগম রোকেয়ার জন্মদিন’।

এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি সাজিদ হাসান নামের একজনের পোস্ট শেয়ার দিয়ে ক্যাপশনে কথাগুলো লিখেছেন। তার মতে ওই পোস্ট পড়ে মনে হয়েছে বেগম রোকেয়া ইসলামবিদ্বেষী ছিলেন। তিনি কথাগুলো কেন লিখেছেন জিজ্ঞেস করা হলে জানান, সাজিদ হাসানের ওই পোস্ট পড়ে এসে আবার ফোন দিতে বলেন।

পোস্ট পড়ে তাকে আবার ফোন দেওয়া হলে তিনি বলেন, এই পোস্টের লেখাগুলো ভেরিফিকেশনের জন্য বড় আলেমের কাছে যেতে হবে। আপনি বুঝবেন না। আলেমের কাছে গেলেই আপনি বুঝবেন তিনি কাফের বা মুরতাদ ছিলেন কি না! বেগম রোকেয়ার কোনো লেখা পড়েছেন কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি দাবি করেন, তার লেখা উপন্যাস তিনি পড়েছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, ‘এটা তার ব্যক্তিগত অভিমত। এটা অনেকের ভালো লাগবে না। এটা আমি ব্যক্তিগতভাবে এন্ডোর্স করি না।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের সেক্রেটারি পরমা পারমিতা বলেন, ‘বেগম রোকেয়া ছিলেন উপমহাদেশের নারীশিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি কখনোই ধর্মবিদ্বেষী ছিলেন না; বরং অন্ধ কুসংস্কার, বৈষম্য ও অজ্ঞতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন—যা ইসলামসহ সব ধর্মই সমর্থন করে।

কোনো ব্যক্তিকে এভাবে ধর্মীয় গালি দেওয়া শুধু অসম্মানজনক নয়, অন্যায়েরও নামান্তর। ভিন্ন মত বা প্রগতিশীল চিন্তাকে অপমান করে নয়, যুক্তি ও ইতিহাস বুঝে আলোচনা করাই সভ্যতার লক্ষণ।

বেগম রোকেয়ার জন্মদিনে তাকে হেয় করার চেষ্টা তার বিশাল অবদানকে ছোট করতে পারে না; বরং আমাদের নিজেদের সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয়ই প্রকাশ পায়।

এ নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিন বিশ্বাস এষা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘তিনি নাকি আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক! ছিহ! ডিগ্রী থাকলেই কখনো কেও আসলেও প্রকৃত শিক্ষিত হতে পারে না! আপনার ক্লাসে তো নারী পুরুষ উভয় শিক্ষার্থী ই থাকেন তাহলে আপনি কি তাদেরকে ভিন্ন চোখে দেখেন? নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয় যাকে, সেই বেগম রোকেয়াকে নিয়ে আপনার এই বক্তব্যের মাঝে দিয়ে গোটা নারী সমাজ কে আপনি আজ অপমান করেছেন! আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই! আপনার এই মন্তব্য যেমন আপনি প্রকাশ্যে করেছেন তেমনি ভাবে ক্ষমা আপনাকে প্রকাশ্যেই চাইতে হবে!’

রাজশাহী জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা রুমেনা হোসেন বলেন, ‘বেগম রোকেয়া ছিলেন আমাদের নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ, মহীয়সী নারী। আমাদের আলোকবর্তিকা। তাকে নিয়ে এ ধরনের নোংরা মন্তব্য করার তীব্র নিন্দা জানাই।’

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495