কড়াইল বস্তিতে আগুন: ‘মাসে মাসে কিস্তি দিতে হয়, আগুনে সব ছাই হয়ে গেল’

মফস্বল সংবাদ ডেস্কক

প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৩৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর চারদিকে ধোঁয়া আর হাহাকার। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট কাজ করছে, কিন্তু পানির ঘাটতির কারণে আগুন নেভানোর কাজে বাধা তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যেই একের পর এক ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে, স্বল্প আয়ের মানুষগুলো হারাচ্ছেন জীবনের সঞ্চিত সবকিছু।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন বস্তির ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ বস্তির ভেতরে কাউকে ঢুকতে দিচ্ছে না; যেন কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে সেই সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।

যেসব ঘর এখনো আগুনে পুড়েনি, সেসব ঘরের মালিকেরা ভয় আর উৎকণ্ঠায় যা পারেন তাই বের করে নিচ্ছেন। কেউ মাথায় করে, কেউ হাতে করে—যা কিছু বাঁচানো সম্ভব তা নিয়েই দৌড়াচ্ছেন নিরাপদ স্থানে।

আগুনে সব হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বস্তিবাসী লাভলী বেগম। তিনি জানান, “সাত বছর ধরে এই বস্তিতে আছি। কষ্ট করে কিস্তি দিয়ে দিয়ে টিভি, ফ্রিজ, আসবাবপত্র কিনেছিলাম। আগুনে সব শেষ হয়ে গেল। এখন কী করব?”

অন্য বস্তিবাসী লাকি আক্তার, যিনি পোশাক কারখানায় কাজ করেন, তিনিও একই হতাশায় ডুবে আছেন। তার ঘরও সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে বলে তিনি শুনেছেন। “সব নাকি পুড়ে ছাই। এখন কোথায় যাব, কী দিয়ে আবার শুরু করব- কিছুই বুঝতে পারছি না,” বলেন তিনি।

বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লাকি ও লাভলীর মতো নিম্ন আয়ের বহু মানুষ এ বস্তিতে বসবাস করেন। দিনের পর দিন পরিশ্রম করে যারা টুকটাক করে ঘর সাজিয়েছিলেন, আজকের আগুন সেই সব স্বপ্ন মুহূর্তেই ছাই করে দিয়েছে। অনেকের সামনে এখন শুধুই অনিশ্চয়তা।

ফায়ার সার্ভিসের সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, আগুন ক্রমেই বড় আকার ধারণ করছে এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। পানির সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৬টি ইউনিট সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495