জনগণের ভাষা বুঝুন, তাদের আন্দোলনে নামতে বাধ্য করবেন না: এ টি এম আজহার
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতায় আসার অল্প সময়ের মধ্যেই জনগণকে নিজেদের দাবি আদায়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হওয়া সরকারের জন্য ইতিবাচক বার্তা নয়। তিনি সরকারকে জনগণের ভাষা বোঝার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানুষকে আন্দোলনে ঠেলে না দিয়ে তাদের সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংক মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত গণমিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক জনদুর্ভোগ কমানোর দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সমাবেশ শেষে একটি গণমিছিল রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সরকারের উদ্দেশে এটিএম আজহার বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গণভোটের রায় বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও এখন সংবিধানের অজুহাত দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, যে সংবিধানের কথা বলে সরকার ক্ষমতায় আছে, সেই সংবিধানের ক্ষেত্রেই কেন দ্বৈত অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। জনগণ এ ধরনের আচরণ মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শক্তিকে সরিয়ে দিয়েছে। তাই পেটোয়া বাহিনী দিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করলে তা সফল হবে না। সংখ্যাগরিষ্ঠতা কখনোই কাউকে স্থায়ীভাবে ক্ষমতায় রাখতে পারে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সরকার তা উপেক্ষা করে নিজেদের অনুগতদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বসিয়েছে। এতে দেশের মানুষের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে দেশের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না।
জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, সরকারের ব্যর্থতায় সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হলেও সমালোচনা করলে নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তেলের সংকট নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যদি পর্যাপ্ত মজুদ থাকে, তাহলে কেন মানুষের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আসা প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর আযাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, এবি পার্টির সহসভাপতি ড. ওহাব মিনারসহ বিভিন্ন দলের নেতারা।