বাংলাদেশে রপ্তানি বন্ধ

সীমান্তে পচে যাচ্ছে ভারতের পেঁয়াজ, বিক্রি হচ্ছে ২ রুপি কেজি দরে

মফস্বল সংবাদ ডেস্কক

প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১১:২২ পিএম

সীমান্তে পচে যাচ্ছে ভারতের পেঁয়াজ। ছবি কোলাজ: মনোযোগ প্রকাশ

বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানি কমে যাওয়ায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় হাজার হাজার টন পেঁয়াজ পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ আমদানি কমিয়ে দেওয়ার পর দেশটির পেঁয়াজচাষি ও ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। রপ্তানিতে বারবার হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

জানা গেছে, মালদহ জেলায় প্রায় ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ পচে যাওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছে। জেলার সীমানা বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের সঙ্গে। মালদহের মাহাদিপুর–সোনামসজিদ সীমান্ত দিয়ে সাধারণত পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তবে এবার বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ নিতে না যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ভারতীয় রপ্তানিকারকরা।

মাহাদিপুর–সোনামসজিদ এলাকায় দেখা যায়, সেখানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২ রুপিতে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ টাকা ৭৩ পয়সা)। ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০০ রুপিতে (১৩৬ টাকা)। অথচ মালদহ শহরের বাজারে এই পেঁয়াজ এখনও কেজিপ্রতি ২০–২২ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে মাহাদিপুরে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ বিক্রি না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা তীব্র ক্ষতির মুখে, যেন পেঁয়াজ কাটার আগেই তাদের চোখে পানি চলে আসছে।

মালদহের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারক সিরাজুল শেখ বলেন, “বছরের এই সময়ে বাংলাদেশে চাহিদা বেশি থাকে—এ ধারণায় কেউ ৫০ ট্রাক, কেউ ৭০ ট্রাক, আবার অনেকে আরও বেশি পরিমাণ পেঁয়াজ মজুত করেছিলেন। ইন্দোর ও নাসিক থেকে এসব পেঁয়াজ আনা হয়েছিল। কিন্তু এখন বাংলাদেশি আমদানিকারকরা নিচ্ছেন না। ফলে আমরা বাধ্য হয়ে ২, ৬, ৮ কিংবা ১০ রুপিতে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছি।”

আরেক রপ্তানিকারক জাকিরুল ইসলাম জানান, “দুই মাস আগেও প্রতিদিন ৩০–৩৫ ট্রাক পেঁয়াজ বাংলাদেশে পাঠাতাম। আমদানি–রপ্তানি স্বাভাবিক ছিল। এখন ট্রাকভর্তি পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে। নামমাত্র মূল্যে স্থানীয় বাজারে ছুঁড়ে দিতে হচ্ছে।”

ভারতীয় রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, বাংলাদেশের আমদানিকারীরা মৌখিক প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে পেঁয়াজ নেওয়ার কথা বলেছিলেন। সেই বিশ্বাসে ব্যবসায়ীরা বিপুল পেঁয়াজ মজুত করেছিলেন। কিন্তু আমদানি বন্ধ থাকায় এখন সেই পেঁয়াজ সীমান্তেই নষ্ট হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495