ব্ল্যাকমেইলের জালে ফেলে গুপ্তচরবৃত্তি: পাকিস্তানে গ্রেপ্তার ‘র’ এজেন্ট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁদ পেতে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে গুপ্তচরবৃত্তিতে জড়ানোর অভিযোগে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর থেকে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাওয়ালাকোট এলাকা থেকে আটক ওই ব্যক্তিকে শুরুতে সাধারণ তথ্য আদান-প্রদানের কাজে ব্যবহার করা হয়। পরে ধাপে ধাপে তাকে সংবেদনশীল দায়িত্ব দেওয়া হয়। এসব কাজের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার অবস্থান নির্ধারণ, স্থানাঙ্ক পাঠানো এবং সামরিক স্থাপনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেতু ও সরকারি ভবনের ভিডিও ধারণ করে সরবরাহ করার মতো কার্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আজাদ কাশ্মীর পুলিশের মহাপরিদর্শক লিয়াকত আলি মালিক বলেন, ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে ওই ব্যক্তি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি জানান, একটি ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তার সঙ্গে প্রথমে যোগাযোগ করা হয় এবং পরে ধীরে ধীরে তাকে ফাঁদে ফেলা হয়।
পুলিশ জানায়, এ ধরনের চক্র সাধারণত ভুয়া পরিচয়ে যোগাযোগ করে এবং নানা প্রলোভন দেখিয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে আকৃষ্ট করে। এরপর ক্ষতিকর অ্যাপ ব্যবহার করিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে এসব তথ্য দিয়েই ব্ল্যাকমেইল করে সংবেদনশীল কাজ করানো হয়।
লিয়াকত আলি মালিক আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে পুরো নেটওয়ার্কটি উন্মোচন করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিরীহ তরুণদের ফাঁদে ফেলে তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
এদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আগেও অভিযোগ করেছিলেন, সামরিক উত্তেজনার পর প্রতিবেশী দেশটি প্রক্সি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে আগ্রাসী নীতি পরিহার জরুরি।
এর আগে পাঞ্জাব প্রদেশে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে একাধিক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। পাশাপাশি গত বছর আরও একটি অভিযানে একটি গুপ্তচর নেটওয়ার্ক উন্মোচনের দাবিও করা হয়েছিল, যেখানে স্থানীয়দের ব্যবহার করে লক্ষ্যভিত্তিক হামলার অভিযোগ ওঠে।