হাসিনা-কাদেরসহ ৪৯৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ পুলিশের
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের হওয়া তিনটি পৃথক হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ৪৯৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনটি মামলাতেই ‘তথ্যগত ভুল’ পাওয়া গেছে।
মামলায় নিহত হিসেবে উল্লেখ রয়েছেন ট্রাকচালক মো. জাহাঙ্গীর, ওয়াসার পানির লাইনের মিস্ত্রি জাকির হোসেন এবং জুতা তৈরির কারখানার কর্মী রমজান মিয়া জীবন।
তদন্তে উঠে এসেছে, গত বছরের জুলাই মাসে জাহাঙ্গীর, জাকির ও জীবনের মৃত্যুর পর তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। তবে পরিবারের বাইরে আরও তিন ব্যক্তি একই ঘটনায় ভাটারা থানায় অতিরিক্ত তিনটি মামলা করেন।
পরিবারের বাইরের মামলাগুলোতে তিনজনের মৃত্যুর স্থান ভাটারা উল্লেখ করা হলেও, স্বজনদের করা মামলায় ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।
জাহাঙ্গীরের পরিবারের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, তিনি ২১ জুলাই আগারগাঁওয়ের জাতীয় স্নায়ুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় তার বাবা মো. বাছির শেখ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানায় মামলা করেন।
জাকির হোসেনের মৃত্যুর পর তার মা রোকেয়া ওরফে মিছিলি বেগম কদমতলী থানায় মামলা করেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২১ জুলাই শনিরআখড়া থেকে দক্ষিণ দনিয়া গোয়াল বাড়ী মোড় শাহী মসজিদের সামনে দিয়ে বাসায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান জাকির।
অন্যদিকে, সরকার পতনের দিন ৫ আগস্ট গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জীবনের মাথায় গুলি লাগে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর বিকেল ৩টায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জীবনের বাবা জামাল উদ্দিন আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে আদালত তা পল্টন থানায় এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
তিনটি হত্যা মামলায় সর্বশেষ ২৫ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমার দিন ধার্য ছিল। তবে সেদিন তদন্ত কর্মকর্তারা প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম পরবর্তী শুনানির তারিখ ২ মার্চ নির্ধারণ করেন।