প্রাক্তনের বিয়ের দাওয়াতে যাওয়া উচিত? আবেগ না বাস্তবতা, কোনটা মানবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৯ এএম

ছবি: সংগৃহীত

হাতে বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র, কিন্তু সেটি কোনো বন্ধু বা আত্মীয়ের নয় প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকার। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই থমকে যান। তখন মনে জাগে একটাই প্রশ্ন প্রাক্তনের বিয়েতে যাওয়া কি আদৌ উচিত?

প্রশ্নটি যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটাই জটিল। এখানে ব্যক্তিগত আবেগ, স্মৃতি আর বাস্তবতার মধ্যে সূক্ষ্ম এক টানাপোড়েন কাজ করে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের মানসিক অবস্থান বোঝা জরুরি।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, প্রাক্তনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উপস্থিত হওয়া মানে নিজেকে আবার পুরনো স্মৃতির সামনে দাঁড় করানো। যদি ভেতরে এখনো কষ্ট, অপূর্ণতা বা আক্ষেপ থেকে যায়, তাহলে এমন পরিবেশ মানসিক অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। সে ক্ষেত্রে নিজেকে সেই পরিস্থিতি থেকে দূরে রাখাই ভালো।

তবে সম্পর্কের সমাপ্তির ধরন এখানে বড় ভূমিকা রাখে। যদি বিচ্ছেদ ঘটে পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে, তাহলে পরবর্তীতে সম্পর্ক একটি নিরপেক্ষ অবস্থানে দাঁড়াতে পারে। এমন অবস্থায় প্রাক্তনের বিয়েতে উপস্থিত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সম্পর্ক ইতিবাচকভাবে শেষ হয়ে থাকে এবং দুইজনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকে, তাহলে স্বল্প সময়ের জন্য বিয়েতে গিয়ে শুভেচ্ছা জানানো যেতে পারে। তবে সেখানে অবশ্যই একটি সম্মানজনক দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি, যাতে পুরনো আবেগ নতুন করে জেগে না ওঠে।

অন্যদিকে, যদি সম্পর্কের ইতি ঘটে তিক্ততা, অবিশ্বাস বা মানসিক আঘাতের মধ্য দিয়ে, তাহলে সেখানে যাওয়া পুরনো ক্ষতকে আবার উসকে দিতে পারে। তাই এমন ক্ষেত্রে এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

যদি কেউ প্রাক্তনের বিয়েতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে কিছু শিষ্টাচার মেনে চলা প্রয়োজন। এটি কোনো পুরনো সম্পর্ক ফিরে পাওয়ার জায়গা নয়, বরং নতুন জীবনের সূচনার অনুষ্ঠান। তাই সংযত আচরণ, স্বল্প সময় উপস্থিতি এবং আন্তরিক শুভেচ্ছা এই তিনটি বিষয় গুরুত্ব পায়। অতীত নিয়ে আলোচনা বা অতিরিক্ত আবেগ প্রকাশ এড়িয়ে চলাই উচিত।

এ বিষয়ে জয় (ছদ্মনাম) নামের এক তরুণ জানান, তার প্রাক্তন তাকে বিয়েতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল এবং তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তার ভাষায়, অনুষ্ঠানে গিয়ে পুরনো স্মৃতি মনে পড়েছিল এবং কিছুটা খারাপও লেগেছিল, যা স্বাভাবিক। তবে তিনি নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছেন এবং স্বাভাবিক আচরণ বজায় রেখেছেন।

তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠানে পরিচিত অনেকেই ছিলেন, সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছেন এবং পরিবেশ উপভোগ করার চেষ্টা করেছেন। তবে পরিস্থিতি কিছুটা কঠিন হয়ে উঠলে বেশিক্ষণ না থেকে তিনি সুন্দরভাবে বিদায় নেন। তার মতে, এই অভিজ্ঞতার পর প্রাক্তনের সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও স্বাভাবিক হয়েছে।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495