মা-মেয়েকে হত্যার কারণ জানালেন গৃহকর্মী আয়েশা
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৫৫ এএম
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা-মেয়েকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার গৃহকর্মী আয়েশা দাবি করেছেন, চুরির সন্দেহে তাকে আটকানো ও তল্লাশি করতে চাওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
বুধবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মোহাম্মদপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সহিদুল ওসমান মাসুম জানান, আয়েশাকে তার স্বামীর বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে। ডিএমপি মিডিয়া শাখা জানায়, তেজগাঁও বিভাগের ডিসির তত্ত্বাবধানে মোহাম্মদপুর থানার একটি টিম অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আয়েশা পলাতক ছিলেন। ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল নলছিটি থেকে তাকে আটক করে।
পুলিশকে দেওয়া প্রাথমিক জবানবন্দিতে আয়েশা বলেন, ঘটনার দিন তিনি বাসা থেকে বের হতে চাইলে গৃহপরিচারিকা লায়লা আফরোজ তাকে চুরির সন্দেহে বাধা দেন এবং তল্লাশি করতে চান। এ সময় হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তিনি লায়লাকে আঘাত করেন। লায়লার চিৎকার শুনে তার মেয়ে নাফিসা এসে পড়লে তাকেও একই অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকেন। আয়েশা দাবি করেন, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার নিজের হাতেও কোপ লাগে।
তবে আয়েশার এই বক্তব্য পুরোপুরি বিশ্বাস করছে না পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, তার দেওয়া তথ্যের কিছু অংশ সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত ছিল কি না অথবা এটি পরিকল্পিত ছিল কি না—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, আয়েশার স্বামী রাব্বীকেও আটক করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আয়েশাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। পুলিশ দাবি করেছে, এর আগেও ছয় মাস আগে মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকার একটি বাসায় চুরি করেছিলেন আয়েশা।
গত সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি ১৪ তলা ভবনের সপ্তম তলায় লায়লা আফরোজ ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নাফিসা মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।