কখনোই ইন্টারনেট বন্ধ করা যাবে না, অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদন
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:১৬ পিএম
কখনোই ইন্টারনেট বা টেলিযোগাযোগ সেবা বন্ধ করা যাবে না—এমন বিধান যুক্ত করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশের সংশোধন প্রস্তাবের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। একই সঙ্গে সিম ও ডিভাইস রেজিস্ট্রেশনের তথ্য ব্যবহার করে নাগরিককে নজরদারি বা হয়রানি করাকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সংশোধিত অধ্যাদেশটি পাস হয়। পরে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অধ্যাদেশের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।
সংশোধিত অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ইন্টারনেট বা টেলিযোগাযোগ সেবা কোনো অবস্থাতেই বন্ধ করা যাবে না। একই সঙ্গে ২০১০ সালের বিতর্কিত সংশোধনী কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর স্বাধীনতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির ক্ষমতা ও কার্যপরিধির মধ্যে ভারসাম্য আনার কথাও উল্লেখ করা হয়।
নতুন বিধান অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু লাইসেন্স ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টাডির ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় অনুমোদন করবে। তবে অন্যান্য সব লাইসেন্স ইস্যুর এখতিয়ার পুনরায় বিটিআরসির কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির নেতৃত্বে একটি ‘জবাবদিহিতা কমিটি’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লাইসেন্স আবেদন থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যন্ত সময় কমানো হয়েছে। আগের আইনে থাকা উচ্চ জরিমানা ও পুনরাবৃত্ত জরিমানার হারও হ্রাস করা হয়েছে, যা টেলিযোগাযোগ খাতকে আরও বিনিয়োগবান্ধব করবে। এছাড়া প্রতি চার মাস অন্তর বিটিআরসিকে গণশুনানি আয়োজন ও তার ফলোআপ ওয়েবসাইটে প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সংশোধিত অধ্যাদেশে সিম ও ডিভাইস রেজিস্ট্রেশনের তথ্য ব্যবহার করে কোনো নাগরিককে নজরদারি বা অযথা হয়রানি করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ‘স্পিচ অফেন্স’ সংক্রান্ত নিবর্তনমূলক ধারা পরিবর্তন করে কেবল সহিংসতার আহ্বানকে অপরাধের আওতায় রাখা হয়েছে, যা সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আইনানুগ ইন্টারসেপশনের সংজ্ঞা ও পরিধিও স্পষ্ট করা হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘সেন্টার ফর ইনফর্মেশন সাপোর্ট (সিআইএস)’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশের মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত হবে। জাতীয় নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা, জরুরি প্রাণরক্ষা, বিচারিক ও তদন্ত কার্যক্রমে নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে আইনানুগ ইন্টারসেপশন করা যাবে।
অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, সিআইএস নিজে কোনো ইন্টারসেপশন পরিচালনা করতে পারবে না; এটি কেবল কারিগরি সহায়তা দেবে। এই সংশোধনের মাধ্যমে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন্স মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) বিলুপ্ত করা হয়েছে। আইনানুগ ইন্টারসেপশনের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আধা-বিচারিক কাউন্সিল ও সংসদীয় তদারকির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এছাড়া ইমেজ ও ভয়েস প্রোটেকশন, সিম ডেটা ও ডিভাইস ডেটা সুরক্ষার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পুরো অধ্যাদেশটি জাতিসংঘ, আইটিইউসহ আন্তর্জাতিক উত্তম অনুশীলনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২০ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশটি নীতিগত অনুমোদন পায়। পরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে বুধবার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।