ভারতকে ব্যান্ডউইথ ট্রানজিট দিতে চাওয়ার আবেদন প্রত্যাখ্যান বাংলাদেশের
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৩৬ পিএম
আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বাংলাদেশ প্রত্যাখ্যান করেছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ দিতে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ‘ব্যান্ডউইথ ট্রানজিট’ সুবিধা দেওয়ার আবেদন বিটিআরসি নাকচ করেছে।
আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে এই ট্রানজিট সুবিধা আর দেওয়া হচ্ছে না। ব্যান্ডউইথ হলো প্রতি সেকেন্ডে তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষমতা, যা ইন্টারনেটের গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, এই ধরনের ট্রানজিট অনুমোদন দিলে বাংলাদেশের আঞ্চলিক ডিজিটাল হাব হিসেবে কৌশলগত অবস্থান দুর্বল হতে পারে। এ কারণে বিটিআরসি ১ ডিসেম্বর একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করে আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে।
এর আগে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সামিট কমিউনিকেশনস ও ফাইবার অ্যাট হোম ভারতের টেলিকম কোম্পানি ভারতী এয়ারটেল লিমিটেডের সঙ্গে যৌথভাবে আখাউড়া থেকে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত ব্যান্ডউইথ ট্রানজিট সংযোগ স্থাপনের অনুমতি চেয়েছিল। প্রাথমিকভাবে সেই প্রস্তাবটি সমর্থনও পায়।
প্রস্তাব অনুযায়ী আখাউড়া সীমান্তে স্থলভিত্তিক (টেরেস্ট্রিয়াল কেবল) সংযোগ স্থাপন করে ইন্টারনেট ট্রানজিট চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে বিটিআরসি সূত্র জানিয়েছে, এই সংযোগে বাংলাদেশের বাস্তবিক লাভ সীমিত হতো, বরং সুবিধা হতো ভারতের।
সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রস্তাবে জড়িত দুটি প্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। সামিট কমিউনিকেশনসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফরিদ খান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য ফারুক খানের ভাই, এবং ফাইবার অ্যাট হোমের সঙ্গে জড়িত সজীব ওয়াজেদ জয়, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও আইসিটি উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।