কার্যকারিতা হারাল গণভোটসহ ২০ অধ্যাদেশ
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৯ এএম
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোর ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় সংসদ। মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে জারি হওয়া মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি আজ থেকে কার্যকারিতা হারিয়েছে।
সংসদে ৮৭টি বিল পাসের মাধ্যমে ১১৩টি অধ্যাদেশকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে পৃথক চারটি বিলের মাধ্যমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ ৭টি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে।
তবে বহুল আলোচিত গণভোট অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশসহ ১৩টি অধ্যাদেশ সংসদের অনুমোদন পায়নি। ফলে এসব অধ্যাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গেছে, যা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে গণভোট অধ্যাদেশের আওতায় অনুষ্ঠিত ‘গণভোট ২০২৬’-এর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে গুম, দুর্নীতি দমন কমিশন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নিয়েও স্পষ্টতা নেই।
সংসদের নিয়ম অনুযায়ী, অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির জারি করা অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি না হলে তা বাতিল হয়ে যায়। গতকাল ছিল এই সময়সীমার শেষ দিন। এর আগে ১২ মার্চ আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সংসদে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করেন।
অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি, যার নেতৃত্বে ছিলেন জয়নুল আবেদিন, অধিকাংশ অধ্যাদেশ অনুমোদনের সুপারিশ করে। তবে কিছু ক্ষেত্রে কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করে সংসদ ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়, যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
শেষ দিনে সংশোধিত বিল পাসকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের তীব্র প্রতিবাদ দেখা যায়। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সংসদে সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন এবং তা ‘ছলচাতুরী ও জোচ্চুরি’ বলে উল্লেখ করেন। এ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার পর বিরোধীরা ওয়াকআউট করেন।
এদিকে টানা ছয় কার্যদিবসে ৯১টি বিল পাস করে ১২০টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির নজির গড়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ, যা দেশের সংসদীয় ইতিহাসে বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া নানা সিদ্ধান্তের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।