এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, ধানমন্ডিতে বড় আয়োজন
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০০ এএম
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে আত্মপ্রকাশ করা রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ‘দেশ যাবে নতুন পথে, ফিরবে না আর ফ্যাসিবাদে’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে দিনটি স্মরণীয় করে তুলতে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দলটি।
গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পথচলা শুরু করা এই তরুণ রাজনৈতিক শক্তি অল্প সময়েই দেশের রাজনীতিতে আলোচিত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির আবাহনী মাঠে আয়োজন করা হয়েছে বিশাল ইফতার মাহফিল ও মিলনমেলার।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্যোগেই দলটির জন্ম। প্রতিষ্ঠার পর থেকে রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে রাজপথ ও আলোচনার টেবিলে সরব ভূমিকা পালন করে আসছে এনসিপি।
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের শরিক হিসেবে ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দলটি। নির্বাচনে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন-সহ মোট ছয়জন তরুণ নেতা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আইনসভায় জায়গা করে নিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আজকের আয়োজন কেবল রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়; এটি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের মিলনমেলায় রূপ নেবে। ধানমন্ডির আবাহনী মাঠে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, শিক্ষক, সাংবাদিক, শ্রমিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
বিকেল চারটা থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজনে গত এক বছরের রাজনৈতিক পথচলার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো নিয়ে বিশেষ চিত্রপ্রদর্শনী এবং দেয়ালচিত্রভিত্তিক প্রচার উপস্থাপন করা হবে।
দলটির এক বছরের পথচলা চ্যালেঞ্জে ভরা হলেও অর্জনে সমৃদ্ধ বলে দাবি নেতাদের। সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে রাজধানীর পাশাপাশি বিভাগীয় শহরগুলোতেও কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এনসিপি। আগামী ২ মার্চ চট্টগ্রাম, ৪ মার্চ সিলেট, ৫ মার্চ ময়মনসিংহসহ পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ৩ মার্চ কুমিল্লায় বিশেষ ইফতার আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শহীদ পরিবারের মিলন ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মার্চজুড়ে এসব কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছে দলটি।