ঢাবি ছাত্রদল নেতাকে পূর্বের তারিখ দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কারাদেশ ছাত্রদলের
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা মাহি চৌধুরী অর্ণবের বিরুদ্ধে কোটি টাকার বেশি অর্থ প্রতারণার অভিযোগ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ছাত্ররাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ ঘটনার পাশাপাশি সংগঠনের বহিষ্কারাদেশের তারিখ নিয়ে নতুন বিতর্কও সামনে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষায় পূর্বের তারিখ দেখিয়ে বহিষ্কারাদেশ প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বিষয়টি ভাইরাল হওয়ার পরপরই এই বহিষ্কারাদেশ প্রস্তুত করা হয়। ফলে অভিযোগ ওঠে, ঘটনার সময় অর্ণব ছাত্রদলের সক্রিয় পদধারী ছিলেন।
সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রতারণার অভিযোগে ভুক্তভোগীদের হাতে আটক হন মাহি চৌধুরী অর্ণব। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তারা আগে থেকেই অবগত ছিলেন এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল। তবে সে সময় তিনি বহিষ্কারের বিষয়ে কিছু উল্লেখ করেননি।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২৮ মার্চ তারিখ উল্লেখ করে একটি বহিষ্কারাদেশ প্রচার করা হয়। এতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মাহি চৌধুরী অর্ণবকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কোনো আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্মে ওই তারিখে বহিষ্কারাদেশ প্রকাশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি সাংবাদিকদের ব্যবহৃত যোগাযোগ গ্রুপগুলোতেও ওই সময় কোনো বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে এক বার্তায় জানানো হয়, গত ৮ মার্চ অর্ণবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় ২৮ মার্চ তাকে বহিষ্কার করা হয়। সাংবাদিকদের সংবাদে তাকে বহিষ্কৃত হিসেবে উল্লেখ করারও অনুরোধ জানানো হয়।
বহিষ্কারাদেশের সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী বলেন, এটি তাৎক্ষণিকভাবে তৈরি করা হয়নি। বরং অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, অর্ণব ব্যক্তিগতভাবে ব্যবসার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন এবং পাওনাদাররা বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, যাতে পরিস্থিতি আরও জটিল না হয়।
এ ঘটনায় ইতোমধ্যে কাফরুল থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মাহি চৌধুরী অর্ণব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থী এবং হাজী মুহাম্মদ মুহসিন হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ছিলেন।
বহিষ্কারাদেশের তারিখ ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠায় বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।