এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক শক্তি নয়: নাহিদ ইসলাম
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:১২ পিএম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “বাংলাদেশের এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক শক্তি নয়। দলটি ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না এবং বরাবরই নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে।”
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী পর্যটন মোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “শেখ মুজিবুর রহমান থেকে শেখ হাসিনা পর্যন্ত আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে বারবার ধ্বংস করেছে। তারা চায় না দেশে স্থিতিশীলতা আসুক, কিংবা নির্বাচন হোক। আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত কিছু বৈদেশিক শক্তিও নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা মনে করি আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করা গেছে, কিন্তু তাদের ফ্যাসিবাদ এখনো টিকে আছে—সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক এমনকি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও। আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ও সন্ত্রাসী শ্রেণি এখনও সক্রিয়।”
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আগামী সংসদ নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই। এটি এখন ঐক্যমত কমিশনের বিষয়। গণভোটে গেলে জনগণের রায়েই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বেই নির্বাচন আয়োজন করবে।”
তিনি আরও বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মডেল অতীতে বিচার বিভাগকে টেনে এনে ক্ষতিকর ফল দিয়েছে। তাই এখন আমাদের লক্ষ্য—নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন।”
এনসিপিকে শাপলা প্রতীক না দেওয়াকে “নির্বাচন কমিশনের স্বেচ্ছাচারিতা” বলে অভিহিত করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “ইসি যদি ব্যাখা ছাড়াই কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চায়, তবে বোঝা যাবে—কমিশন স্বাধীন নয়, অন্য কোনো শক্তির ইশারায় পরিচালিত হচ্ছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, এনসিপির নির্বাচনমুখী কার্যক্রম থামিয়ে রাখতে কিছু রাজনৈতিক শক্তি নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করছে। তবে দলটি ইতোমধ্যে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। “আমরা চাই, আগামী সংসদে তরুণ, নারী, সংখ্যালঘু ও প্রবাসী প্রতিনিধিত্ব থাকবে। সমাজ পরিবর্তনে আগ্রহী মানুষদেরই আমরা প্রার্থী করতে চাই,” যোগ করেন তিনি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের রূপরেখা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মাধ্যমে ঘোষণার দাবি জানান নাহিদ। তিনি বলেন, “গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ অনুমোদিত হবে, এবং সেই সাংবিধানিক আদেশ ইউনূস স্যারকেই দিতে হবে। এই আদেশ জনগণের বৈধ গণআন্দোলনের ভিত্তিতে হতে হবে।”
তিনি আরও জানান, “জুলাই সনদ যদি বাস্তবায়নের রূপরেখা না দেয়, তাহলে এটি কেবলই কাগজের সাইন, যার মূল্য কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আমরা সংস্কার চাই, তবে সেটি কার্যকর হতে হবে।”
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা এখনো কোনো জোটে যাচ্ছি না। যদি যাই, তা হবে নীতিগত জায়গা থেকে। যারা সংস্কারের পক্ষে, তাদের সঙ্গে ঐক্য হতে পারে; কিন্তু যারা ইতিহাসে দায়ভার বহন করছে, তাদের সঙ্গে নয়।”
তিনি ফেব্রুয়ারির মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সব পক্ষকে এজন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। যদি কেউ ক্ষমতার লোভে জাতীয় ঐক্য ভাঙে বা জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে যায়, তাহলে সংসদ টেকানো কঠিন হবে।”
জাতীয় পার্টির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “জাতীয় পার্টি এখন আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। তারা প্রকাশ্যে বলছে আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হবে না—এটা স্পষ্টতই গণতন্ত্রবিরোধী অবস্থান। তাদের বিচারের আওতায় আনাই এখন অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব।”
শেষে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদ শুধু রাজনীতিতে নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরে রয়ে গেছে। এই শক্তিকে পরাজিত করতে হলে জাতীয় ঐক্য এবং সংস্কার বাস্তবায়ন—এই দুটিই এখন সময়ের দাবি।”