কক্সবাজারে হামের থাবা, যমজ দুই কন্যাকে হারিয়ে দিশেহারা কৃষক দম্পতি
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২১ পিএম
কক্সবাজার জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। ইতোমধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আট মাস বয়সি যমজ দুই কন্যা।
জেলার রামু উপজেলার ঝিলংজা ও মিঠাছড়া এলাকার মাঝামাঝি সম্মুলকচড় গ্রামের বাসিন্দা কৃষক আজিজুল হক ও মরিয়ম খাতুন দম্পতির ঘর আলো করে জন্ম নিয়েছিল যমজ দুই মেয়ে—রুশফি ও রাফিজা। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত রমজানের শেষ দিকে জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হলে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২ এপ্রিল এক কন্যার মৃত্যু হয়। এর দুই দিন পর আরেক কন্যাও মারা যায়। সন্তানদের হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন বাবা-মা।
কৃষক আজিজুল হক জানান, কৃষিকাজ করেই তাদের সংসার চলে। সাত সন্তানের মধ্যে এই যমজ দুই মেয়ে ছিল সবার ছোট। অভাবের সংসার হলেও সন্তানদের বাঁচাতে প্রায় অর্ধলাখ টাকা খরচ করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, রমজানের শুরুতে জ্বর ও কাশি নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুদিন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর ঈদের আগমুহূর্তে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে তারা। এরপর আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হলে একে একে দুই কন্যার মৃত্যু হয়।
দুই সন্তান হারানোর শোকে মা মরিয়ম খাতুন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। বর্তমানে তিনিও অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। তিনি জানান, সন্তানদের চিকিৎসায় কোনো কমতি রাখেননি, এমনকি ধারদেনা করেও চিকিৎসা চালিয়ে গেছেন। তবুও শেষ পর্যন্ত সন্তানদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
ঈদের আনন্দ ছুঁতে পারেনি এই পরিবারকে। বরং এখন ঘরে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। প্রতিবেশীরা জানান, বাড়িটিতে এখন নীরবতা বিরাজ করছে, ঠিকমতো চুলাও জ্বলছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা জাফর বলেন, দুই সন্তান হারিয়ে আজিজুল হক দম্পতি প্রায় পাগলপ্রায় হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে মা মরিয়ম খাতুন খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৮ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় ৭৬ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে শুধু সদর উপজেলাতেই আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯ জন।