ফেসবুক মনিটাইজেশনের নেশায় তরুণদের ব্যক্তিত্ব ও মূল্যবোধ হুমকির মুখে

মফস্বল সংবাদ ডেস্কক

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:২৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান যুগে ফেসবুক আর কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং তরুণ প্রজন্মের কাছে আয়ের একটি বড় সুযোগে পরিণত হয়েছে। ভিডিও কনটেন্ট, লাইভ স্ট্রিম কিংবা পেজ মনিটাইজেশনের মাধ্যমে অনেকে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করছেন।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত জনপ্রিয়তা ও আয়ের লোভ অনেক তরুণকে তাদের ব্যক্তিত্ব, আত্মমর্যাদা এবং নৈতিকতা হারাতে বাধ্য করছে।

ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সির সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি মানুষ ফেসবুকে সক্রিয়। এর মধ্যে প্রায় ১২ লাখ তরুণ নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করছেন মনিটাইজেশনের আশায়। কিন্তু তাদের একটি বড় অংশ কেবল ভিউ, লাইক ও শেয়ার বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। মানসম্মত বা শিক্ষামূলক কনটেন্ট তৈরির পরিবর্তে ট্রেন্ডি, বিতর্কিত কিংবা নিম্নমানের কনটেন্টের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

রাজশাহীর স্থানীয় এক কলেজ ছাত্র আশিক রহমান (ছদ্মনাম) জানান, “শুরুতে পড়াশোনার পাশাপাশি ভিডিও বানাতাম। এখন শুধু ট্রেন্ডি কনটেন্টের দিকে ঝুঁকছি, কারণ ভিউ এবং আয়ের চাপ অনেক বেশি। মাঝে মাঝে মনে হয় নিজেকে হারিয়ে ফেলছি।”

জনতা মহাবিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাশেদা খাতুন বলেন, “ফেসবুকের ভার্চুয়াল জনপ্রিয়তার নেশা তরুণদের মানসিক চাপ ও হতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ‘লাইক’, ‘শেয়ার’ ও ‘ইনকাম’-এর হিসাব কষতে কষতে তারা বাস্তব জীবন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এতে আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে।”

সম্প্রতি রাজশাহীতে এক তরুণ ফেসবুক লাইভে দর্শক টানার জন্য অশ্লীল ও বিতর্কিত কনটেন্ট প্রচার করেন। পরে ব্যাপক সমালোচনা ও পারিবারিক চাপে তাকে কনটেন্ট তৈরি বন্ধ করতে হয়। স্থানীয় সমাজকর্মীদের মতে, এ ধরনের ঘটনা তরুণ সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা।

সমাজবিজ্ঞানী ড. শহীদুল ইসলাম মনে করেন, “ফেসবুক মনিটাইজেশন একটি ইতিবাচক সুযোগ হতে পারে। তবে এর সঠিক ব্যবহার না হলে তরুণরা অর্থ ও খ্যাতির পেছনে ছুটতে গিয়ে নৈতিকতা, ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক মূল্যবোধ হারাবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ফেসবুক মনিটাইজেশনকে শিক্ষামূলক, তথ্যসমৃদ্ধ, সংস্কৃতিমূলক ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা উচিত। তাদের মতে, অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি ব্যক্তিত্ব, নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষা করাই প্রকৃত সাফল্য।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495