গণভোট ঘিরে সামাজিকমাধ্যমে ‘হ্যাঁ–না’ ক্যাম্পেইন, উত্তপ্ত রাজনৈতিক অঙ্গন

মফস্বল সংবাদ ডেস্কক

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫, ১২:২৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়ন নিয়ে গণভোট ইস্যুতে দেশের রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে প্রতিদিনই। এই ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভাজন যেমন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, তেমনি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও প্রচারণা।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নিউজফিডে ছড়িয়ে পড়েছে “হ্যাঁ” ও “না” লেখা পোস্টার ও ব্যানার।
যারা জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট আয়োজনের পক্ষে, তারা ‘হ্যাঁ’ লেখা পোস্টার ও ব্যানার শেয়ার করছেন। অন্যদিকে যারা মনে করেন গণভোট জাতীয় নির্বাচনের দিন বা তার পর হওয়া উচিত, তারা ‘না’ লেখা পোস্টার ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

এই “হ্যাঁ–না” ক্যাম্পেইন মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়াও সাধারণ নেটিজেনদের মধ্যেও এ নিয়ে তুমুল আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।

দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ কয়েকটি দল জাতীয় নির্বাচনের দিনে গণভোট আয়োজনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনের আগেই গণভোট চায়—যাতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা যায়।

অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সম্প্রতি তাদের সুপারিশে জানিয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য অবিলম্বে সরকারি আদেশ জারি করে একটি গণভোট আয়োজন করা উচিত। কমিশন তাদের প্রস্তাবে গণভোটের ব্যালটে প্রশ্ন আকারে বিষয়টি উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে— “আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং ইহার তফসিল-১ এ সন্নিবেশিত সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করিতেছেন?”

ভোটাররা এখানে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ এর মাধ্যমে নিজেদের মতামত জানাবেন।

কমিশনের আরও প্রস্তাব অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ একইসঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও জাতীয় সংসদ হিসেবে কার্যকর থাকবে। তবে এই সংস্কার পরিষদ ২৭০ দিন কার্যকর থাকবে। যদি এই সময়ের মধ্যে প্রস্তাবিত সংস্কার সম্পন্ন না হয়, তবে গণভোটে পাস হওয়া বিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “হ্যাঁ–না” ক্যাম্পেইন গণভোট ইস্যুকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এটি শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনে নয়, সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ ও অংশগ্রহণের জন্ম দিয়েছে—যা আগামী নির্বাচনের রাজনৈতিক তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495