গণভোটের রায় না মানলে গভীর সংকটে পড়বে দেশ: শিশির মনির
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম
গণভোটের ফলাফল দ্রুত বাস্তবায়ন করে সংবিধান সংস্কার সভার অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, জনগণের দেওয়া রায় উপেক্ষা করা হলে দেশ নতুন করে সাংবিধানিক ও আস্থার সংকটে নিমজ্জিত হতে পারে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য।
গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শিশির মনির বলেন, বিশ্বে কোথাও গণঅভ্যুত্থান সংবিধানের ভেতরে থেকে সংঘটিত হওয়ার নজির নেই। এটি স্বভাবতই সংবিধানের বাইরের একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। অথচ বর্তমানে এ বিষয়টিকে আদালতের পরিসরে নিয়ে আসা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী ১৯ তারিখ আদালত খোলার পর সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নের প্রশ্নটি সামনে আসবে। আদালত যদি স্বাধীনভাবে অবস্থান নেয়, তাহলে সরকারের বিরুদ্ধে রায় দেওয়াই হবে তাদের দায়িত্ব।
সংবিধান সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, গণভোটের ফল মেনে ১৮০ দিনের জন্য সংবিধান সংস্কার সভার অধিবেশন ডাকতে হবে। এরপর সংসদকে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষে বিভক্ত করার কথা উল্লেখ করেন তিনি। উচ্চকক্ষে ১০০ সদস্য থাকবে এবং ভোটের আনুপাতিক হারে দলগুলো প্রতিনিধিত্ব পাবে। এই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করলে তা ইতিহাসে কলঙ্কজনক হিসেবে বিবেচিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সুইজারল্যান্ড থেকে শ্রীলঙ্কাসহ ২৬টি দেশের নজির পর্যালোচনা করেছেন তিনি, যেখানে কোথাও গণভোটের রায় উপেক্ষার উদাহরণ নেই।
আদালত ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিশির মনির বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাজনৈতিকভাবে চালু হলেও পরে আদালত সেটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে, যার প্রভাব দীর্ঘদিন দেশকে অস্থিতিশীল করেছে। এখন আবার সেটিকে সাংবিধানিক বলা হচ্ছে, যা সংকট আরও বাড়ায়।
সরকারের প্রতি কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া ফিরে আসতে পারে। তাই ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করা জরুরি।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।