বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এবার স্কুল-কলেজে বন্ধ হচ্ছে র্যাগ ডে
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম
দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগ ডে উদ্যাপনের নামে অশ্লীলতা, নগ্নতা, ডিজে পার্টি ও অশোভন আচরণ বন্ধে আগে থেকেই নির্দেশনা রয়েছে। এবার একই ধরনের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে দেশের স্কুল ও কলেজেও র্যাগ ডে নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর।
জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র্যাগ ডে উদ্যাপনের নামে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জেলা ও উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেওয়া উদ্যোগের অগ্রগতি জানতে চাওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের আওতাধীন এলাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি প্রতিবেদন সংগ্রহ করে একত্রে সংকলন করতে হবে। নির্ধারিত ছক অনুযায়ী সেই প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে।
র্যাগ ডে-সংক্রান্ত বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইভটিজিং প্রতিরোধ এবং শিক্ষার্থীদের রাতে পড়াশোনায় মনোযোগী করতে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমের অগ্রগতিও জানতে চাওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন শাখা থেকে দেশের সব আঞ্চলিক পরিচালক ও আঞ্চলিক উপপরিচালকদের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার সঙ্গে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাদকের কুফল সম্পর্কে প্রচার বাড়ানো এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তৈরি মাদকবিরোধী প্রামাণ্যচিত্র ও থিম সং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইভটিজিং প্রতিরোধ, র্যাগ ডে-এর নামে বিশৃঙ্খলা বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করতে নেওয়া উদ্যোগগুলোর অগ্রগতির তথ্যও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন ছকে অঞ্চলের নাম, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা, বাস্তবায়িত প্রতিষ্ঠানের শতকরা হার, বাস্তবায়ন না হওয়া প্রতিষ্ঠানের হার এবং তার কারণ ও মন্তব্য উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৩ জুলাই র্যাগ ডে উদ্যাপনের নামে অশোভন আচরণ, অশ্লীলতা, নগ্নতা, ডিজে পার্টি ও বুলিং বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি নির্দেশনা দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে একই বছরের ৭ এপ্রিল বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র্যাগ ডে-এর নামে অশ্লীলতা ও অপসংস্কৃতি বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন করা হয়। পরে ১৭ এপ্রিল আদালত ৩০ দিনের মধ্যে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।