কাল থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু, অংশ নেবে সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে। এ বছর পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ জন শিক্ষার্থী। লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ২০ মে এবং ৭ জুনের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষাও সম্পন্ন হবে।
পরীক্ষাকে ঘিরে ভিন্নধর্মী পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বিভিন্ন উদ্যোগ ও কঠোর অবস্থানের কারণে এবারের পরীক্ষায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিনই জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষাবোর্ডগুলো। সারা দেশে ৩ হাজার ২০৯টি পরীক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের নকল প্রতিরোধই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির জানিয়েছেন, অনেক কেন্দ্রে আগে থেকেই সিসি ক্যামেরা ব্যবহারের অভিজ্ঞতা রয়েছে। নতুন কেন্দ্রগুলোকেও এ বিষয়ে প্রস্তুত করতে কেন্দ্র সচিবদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।
এবারের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৩০ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে সরকার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা পরিচালনা নীতিমালা ও পাবলিক পরীক্ষা আইন ১৯৮০-এ কিছু পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। শুধু নকল প্রতিরোধ নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, সিসি ক্যামেরা নিয়ে অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে ভীতি কাজ করছে। শিক্ষামন্ত্রীর কঠোর বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এবং এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি মনে করেন, পরীক্ষার চেয়ে শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
এদিকে, ‘নীরব বহিষ্কার’ নীতি বাতিল করা হলেও এখনও কিছু নির্দেশনা অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেছেন এই শিক্ষাবিদ। তার মতে, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শেখার মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর নীতিমালা প্রয়োজন।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুন্দর ও স্বাভাবিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, শিক্ষকরা সঠিকভাবে পাঠদান করলে শিক্ষার্থীরাও ভালো ফলাফল করতে পারবে।