সৌদি যুবরাজের উসকানিতেই ইরানে হামলা চালিয়েছেন ট্রাম্প!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক ও বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পেছনে শক্তিশালী তদবির ও প্রত্যক্ষ চাপের তথ্য সামনে এসেছে। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের বরাতে জানিয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানে হামলার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন এবং সরাসরি চাপ প্রয়োগ করেন।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত এই দুই ঘনিষ্ঠ মিত্রের ধারাবাহিক সুপারিশ ও উসকানির ভিত্তিতেই তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
চারটি পৃথক গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই মিত্র রাষ্ট্র ইরানে হামলার বিষয়ে হোয়াইট হাউসে ব্যাপক তদবির চালায়। বিশেষ করে নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব খর্ব করতে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের পক্ষে প্রচার চালিয়ে আসছিলেন।
অন্যদিকে, প্রকাশ্যে কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও গত এক মাসে একাধিক ব্যক্তিগত টেলিফোন আলাপে মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আগামী এক দশকের মধ্যে ইরান থেকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে বড় ধরনের আঘাত হানার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। তবুও মিত্র রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত পাওয়ার পর ট্রাম্প ইরানের শাসনব্যবস্থার মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে এই ব্যাপক হামলার নির্দেশ দেন।
শনিবার সকালে পরিচালিত এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি পরিবারের একাধিক সদস্যসহ শাহাদাত বরণ করেছেন বলে জানা গেছে। এতে দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাও নিহত হন।
হামলার জবাবে তেহরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায়। ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শুরু করেছে ইরান। পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অন্তত আটজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনা গোটা অঞ্চলের শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে পারে এবং ওয়াশিংটন–তেহরান সম্পর্ককে এক ভয়াবহ সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।