নতুন দফায় হাইপারসনিক ‘ফাত্তাহ’ মিসাইল হামলা শুরু করেছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ এবং দেশটির ইসলামী শাসনব্যবস্থা রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে হামলা-পাল্টা হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

এরই মধ্যে নতুন দফার হামলায় হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার শুরু করেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের অভিযানের ২৫তম দফায় এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে।

শনিবার এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও সামরিক সহায়তা কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এই অভিযানে হাইপারসনিক ‘ফাত্তাহ’ এবং ব্যালিস্টিক ‘এমাদ’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের গতির পাঁচ গুণেরও বেশি গতিতে ছুটতে সক্ষম। ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজার ১৭৪ কিলোমিটার গতির এই ক্ষেপণাস্ত্র আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ইরানের তৈরি ‘ফাত্তাহ-২’ মডেলটি বিশেষভাবে উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন হওয়ায় এটি বিশ্বের অনেক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে।

সামরিক সাময়িকী ‘মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রযুক্তিতে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মার্চের শুরু থেকে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোতে এই মডেলের অন্তত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, যা তেল আবিবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ফাত্তাহ-২’ ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহৃত হয়েছে হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির কারণে ক্ষেপণাস্ত্রটি বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে উড়ে যেতে পারে এবং মাঝ আকাশে প্রয়োজন অনুযায়ী মুহূর্তেই গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। ফলে প্রচলিত রাডার বা প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে এটিকে শনাক্ত ও ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘রাফায়েল’-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউভাল বাসেস্কিও এই প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করেছেন। তার মতে, বর্তমানে ব্যবহৃত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত সাধারণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য তৈরি। কিন্তু ‘ফাত্তাহ-২’-এর মতো শব্দের গতির প্রায় দশ গুণ গতিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে হলে প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রকে আরও অনেক দ্রুতগতিতে চলতে হবে, যা বাস্তবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন।

এদিকে ইসরায়েলও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের তেহরান ও ইসফাহানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন দফার বিমান হামলা শুরু করেছে। নিজেদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে এই হামলার কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, শনিবার রাতে ইরানের বিরুদ্ধে বৃহৎ পরিসরের বোমাবর্ষণ কর্মসূচি চালানো হতে পারে। এতে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও উৎপাদন কারখানাগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের তিন হাজারের বেশি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495