জাতিসংঘে ইরানের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিলো রাশিয়া ও চীন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে টানা দুই সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। তবে এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে পরাশক্তি রাশিয়া ও চীন।
শুক্রবার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের যৌক্তিকতা তুলে ধরার চেষ্টা করে। কিন্তু এতে বাধা দেয় রাশিয়া ও চীন। বৈঠকের মধ্যেই দুই পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তোলে।
জানা যায়, চলতি মাসে নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা তদারকির জন্য গঠিত ‘১৭৩৭ কমিটি’র কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় করার প্রস্তাব দেয়। রাশিয়া ও চীন আলোচনা ঠেকানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়। ভোটাভুটিতে ১১–২ ব্যবধানে আলোচনার প্রস্তাব পাস হয় এবং দুটি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্টজ অভিযোগ করেন, মস্কো ও বেইজিং তাদের প্রতিরক্ষা অংশীদার ইরানকে রক্ষার জন্য বিশ্বনিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট এই কমিটির কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে।
তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র না থাকা দেশগুলোর মধ্যে ইরানই একমাত্র রাষ্ট্র, যারা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে পূর্ণাঙ্গ পরিদর্শনের সুযোগ দিচ্ছে না।
তবে এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া। তিনি পাল্টা দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর অজুহাত তৈরির জন্যই যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতিকে উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলছে।
চীনের প্রতিনিধি ফু ছংও এই সংকটের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন। তার মতে, একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার কথা বলা আর অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ- যুক্তরাষ্ট্রের এই দ্বিমুখী নীতি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে।
অন্যদিকে ব্রিটেন ও ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে সমর্থন দিয়ে জানায়, আন্তর্জাতিক উদ্বেগের যথাযথ জবাব না দেওয়ায় ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল ছাড়া আর কোনো পথ নেই।
বৈঠক শেষে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি সাংবাদিকদের বলেন, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সবসময়ই শান্তিপূর্ণ। নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা ইরান মেনে নেবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিই দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রধান কারণ। তিনি বলেন, গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা না চালালে দুই সপ্তাহের মধ্যেই দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারত। যদিও কিছু সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে এই দাবির পক্ষে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম হামলাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়। পাশাপাশি ইরানের সেনাবাহিনীর কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডারও নিহত হন।
এর জবাবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরান। টানা ১৪ দিনের এই হামলা-পাল্টা হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক ভয়াবহ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।