বিকল্প সমরকৌশলে চমক ইরানের, মার্কিন ‘আধুনিক’ যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

টানা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার মুখে থাকার পরও ইরান তার সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ও ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে ইরানের সামরিক শক্তি ‘বিধ্বস্ত’ করার দাবি করা হলেও সাম্প্রতিক হামলায় সেই দাবি প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তেহরান দাবি করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় সামরিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, শুক্রবার ইরানের মধ্যাঞ্চলে টহল দেওয়ার সময় একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়। এতে এক ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্যজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে আরেকটি শক্তিশালী মার্কিন যুদ্ধবিমান এ-১০ ওয়ার্টহগ বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক বিমান হামলায় ইরানের রাডার-নির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটি এখন বিকল্প প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করছে। সাম্প্রতিক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, তারা রাডারের পরিবর্তে অপটিক্যাল ও ইনফ্রারেড সেন্সরের মাধ্যমে আকাশে থাকা লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করছে।

এই প্রযুক্তিতে বিমানের ইঞ্জিন থেকে নির্গত তাপ বা ঘর্ষণজনিত তাপমাত্রা শনাক্ত করে ‘প্যাসিভ সেন্সর’ ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ফলে লক্ষ্যবস্তু বিমানগুলো রাডার সতর্কবার্তা পাওয়ার আগেই আঘাতের মুখে পড়ে।

ধারণা করা হচ্ছে, ইরান তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘মজিদ’ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম ব্যবহার করেছে। স্বল্প পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং রাডার ছাড়াই পরিচালিত হওয়ায় তা শনাক্ত করা কঠিন। সাধারণত আধুনিক যুদ্ধবিমানে থাকা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এমন ক্ষেপণাস্ত্র এড়াতে সক্ষম হলেও নিচু দিয়ে উড়ার সময় বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তা কার্যকর হয়নি।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান ১৩ হাজারের বেশি মিশন পরিচালনা করেছে এবং ১২ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। যদিও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের পাল্টা হামলার সক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে—সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

গত মার্চ মাসে ইরান একাধিক মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং ইসরায়েলি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করে। তবে এসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতে প্রযুক্তিগত কৌশলের পরিবর্তনই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা ভবিষ্যতের যুদ্ধনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495