ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের পাইলটকে খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি তৎপরতা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম
ইরানের আকাশে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে উদ্ধারে তৎপর হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীও ওই ক্রুকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ইরানে টহল দেওয়ার সময় একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। এতে একজন ক্রুকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অপরজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ উদ্ধারকারী দল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তারা আরও একটি মার্কিন এ-১০ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। যদিও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মার্কিন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ভূপাতিত বিমানের উদ্ধার অভিযানের সময় হরমুজ প্রণালির কাছে একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। তবে ওই বিমানের পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে এসে পরে উদ্ধার হন।
এদিকে তেহরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় হামলার শব্দ অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইসরায়েলি হামলায় ইরানের ইস্পাত শিল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ উৎপাদন সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে সামরিক অভিযানের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৬৫ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ২৪৭ জন, নৌবাহিনীর ৬৩ জন, মেরিন বাহিনীর ১৯ জন এবং বিমান বাহিনীর ৩৬ জন সদস্য রয়েছেন। এছাড়া এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
দক্ষিণ ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে কারুন নদীর কাছাকাছি এলাকায় একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, আকাশে একটি মার্কিন বিমান ও দুটি হেলিকপ্টার নিখোঁজ ক্রুদের খোঁজে অভিযান চালাচ্ছে। যাচাই করা ওই ফুটেজে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে।
মার্কিন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া একটি হেলিকপ্টার ছোট অস্ত্রের গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এতে কয়েকজন আহত হন। তবে হেলিকপ্টারটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে।
মার্কিন বিমানবাহিনীর বিশেষ উদ্ধার ইউনিটগুলো সাধারণত ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করে। প্রয়োজন হলে এসি-১৩০ গানশিপ থেকে সদস্যরা নেমে স্থলপথে উদ্ধার অভিযান চালান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অভিযানে নিখোঁজ পাইলটের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন, চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া এবং শত্রুপক্ষের আক্রমণ এড়িয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। এজন্য এসব উদ্ধারকারী সদস্যদের বিমানবাহিনীর ‘সুইস আর্মি নাইফ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধবিমানে হামলার ঘটনা ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।