নির্বাচনের আগে একের পর এক টার্গেট কিলিং, বাড়ছে উদ্বেগ
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
নির্বাচনের আগে দেশে একের পর এক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে দেশে প্রতিদিন গড়ে ১১ জন খুন হয়েছেন, যা আগের দুই বছরের তুলনায় বেশি। এর মধ্যে শুধু গত বছরই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ছিল শতাধিক। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ভোটের আগে এ ধরনের সহিংসতা অব্যাহত থাকলে নির্বাচন পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
গত বছরের ১৭ নভেম্বর রাজধানীর মিরপুরে স্থানীয় বিএনপি নেতা গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর এক মাসের মধ্যেই ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে প্রকাশ্যে দিনের আলোতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের মতো একই কায়দায় চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা জানে আলম সিকদারকেও হত্যা করা হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ভোট সংশ্লিষ্টদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিস কেন্দ্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ১০২ জন নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সব মিলিয়ে গত বছর সারা দেশে মোট ৩ হাজার ৭৮৫টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৫৩টি বেশি।
পুলিশ সদরদপ্তরের মুখপাত্র এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, জাতীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়। প্রতিটি ঘটনার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, হত্যাকাণ্ডগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার প্রবণতাই অপরাধীদের আরও সাহসী করে তুলছে। সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, টার্গেট কিলিংয়ের মতো ঘটনাকে হালকাভাবে দেখলে অপরাধীরা পার পেয়ে যায় এবং আইনের আওতার বাইরে থেকে যায়।
প্রশাসনিক দুর্বলতাও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে মনে করেন সাবেক ডিআইজি সাঈদ হাসান। তিনি বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক ডিআইজি খান সাঈদ হাসান বলেন, গত ১৭ বছরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরে তৈরি হওয়া অনিয়ম ও অস্থিরতার প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকেও আরও সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তা না হলে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সহিংসতার ঝুঁকি আরও বাড়বে।