প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবনে থাকছে বাংকার ও টানেল

মফস্বল সংবাদ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নতুন একটি স্থায়ী বাসভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই বাসভবনের নকশায় আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক ডিজাইন যুক্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভবনের মাটির নিচে অত্যাধুনিক বাংকার ও সুড়ঙ্গ (টানেল) রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা যেকোনো বাহ্যিক হামলার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘গণভবন’ এখন ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অবস্থান করলেও নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট বাসভবন নির্ধারণে তেমন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। স্থায়ী বাসভবন নির্ধারণ না হওয়ায় বিষয়টিকে অনেকেই অস্বস্তিকর হিসেবে দেখছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচন-পরবর্তী সরকারপ্রধান কোথায় অবস্থান করবেন, সে বিষয়ে আগের অন্তর্বর্তী সরকার কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত নেয়নি।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আপাতত গুলশান-২ এর নিজ বাসভবন থেকেই দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। যদিও রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ওঠার কথা ছিল, তবে সেটিকে তিনি স্থায়ী বাসভবন হিসেবে বিবেচনা করছেন না; বরং এটি সরকারি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ব্যবহার করা হবে।

নতুন বাসভবনের জন্য রাজধানীর হেয়ার রোড, মিন্টো রোড ও বেইলী রোড এলাকায় জায়গা খোঁজা হচ্ছে। বিশেষ করে সচিবালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংসদ ভবনের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে জায়গা নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচিত এলাকায় একাধিক ভবন অধিগ্রহণ করে সেখানে আধুনিক বাসভবন নির্মাণ করা হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা হবে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানান, বাসভবনের নকশা প্রণয়নে প্রধান স্থপতির সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই মন্ত্রণালয়ে সারসংক্ষেপ জমা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাসভবনে মাটির নিচে বাংকার ও টানেল রাখা হবে, যাতে যেকোনো হামলা পরিস্থিতিতে নিরাপদ থাকা যায়।

এদিকে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মতিন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি স্থায়ী বাসভবন জরুরি। যেহেতু গণভবন এখন জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছে, তাই নতুন বাসভবন নির্মাণ ছাড়া বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রীর পছন্দ অনুযায়ী মিন্টো রোড বা হেয়ার রোড এলাকায় এ বাসভবন নির্মাণের সম্ভাবনা বেশি।

সরকার ইতোমধ্যে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বাসভবন বরাদ্দ দিয়েছে। অনেকেই নতুন বাসায় উঠেছেন, আর কিছু বাসায় সংস্কার কাজ চলছে।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495