জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ, আমদানিতে আসছে নতুন চালান
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বড় ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় সাময়িকভাবে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি হলেও বিকল্প উৎস ও সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে পরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে। দেশের একমাত্র জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) উৎপাদন বর্তমানে সীমিত থাকলেও এতে জাতীয় সরবরাহ চ্যানেলে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না এবং সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় মার্চ ও এপ্রিলের নির্ধারিত ৩ লক্ষ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেল আমদানির শিডিউল কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে । এর মধ্যে মার্চের প্রথম চালানের ১ লক্ষ মেট্রিক টন তেলের জাহাজটি নিরাপত্তা বিবেচনায় বর্তমানে রাস্তানুরা বন্দরে অবস্থান করছে এবং দ্বিতীয় চালানের বিষয়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিশেষ পরিস্থিতি বা ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ ঘোষণা করেছে। তবে সংকট মোকাবিলায় সরকার বসে নেই। ইতিমধ্যে এপ্রিলের নির্ধারিত ১ লক্ষ মেট্রিক টনের একটি তেলের জাহাজ বিকল্প বন্দর ব্যবহার করে আগামী ২ থেকে ৩ মে’র মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
ইআরএল বর্তমানে সীমিত পরিসরে বা ‘লো-ফিড’-এ সচল রাখা হয়েছে । প্রতিষ্ঠানটির মোট ৪টি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে ২টি রক্ষণাবেক্ষণে থাকলেও বাকি ২টি দিয়ে জরুরি অপারেশন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য যে, দেশের মূল জ্বালানি চাহিদা মূলত পরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমেই মেটানো হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের মোট ডিজেলের চাহিদার মাত্র ১৫.৪৪ শতাংশ এবং পেট্রোলের ১১.৯২ শতাংশ ইআরএল থেকে সরবরাহ করা হয়। ফলে ইআরএলে উৎপাদন কম থাকলেও সরকার পর্যাপ্ত পরিশোধিত তেল আমদানি নিশ্চিত করায় বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার মে মাসের নিয়মিত আমদানির পাশাপাশি অতিরিক্ত ১ লক্ষ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েলের জন্য সৌদি আরামকোকে অনুরোধ জানিয়েছে। এছাড়া, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আরও ১ লক্ষ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল আমদানির জন্য ইতিমধ্যে মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যাদেশ জারি করা হয়েছে। নিয়মিত ও বিকল্প উভয় উৎস থেকেই জ্বালানি তেল সংগ্রহের প্রক্রিয়া সচল থাকায় দেশের বিদ্যুৎ, পরিবহন ও কৃষি খাতে তেলের কোনো ঘাটতি হবে না বলে দৃঢ়ভাবে জানানো হয়েছে।