সরকারি চাকরিতে প্রায় ৫ লাখ পদ ফাঁকা, নিয়োগে আসছে নতুন পদ্ধতি

মফস্বল সংবাদ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

দেশের সরকারি চাকরিতে বিভিন্ন গ্রেডে বর্তমানে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ শূন্য রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী। তিনি বলেন, এসব শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মুখস্থনির্ভর সিলেবাস বাদ দিয়ে দক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্পিকারের অনুমতিক্রমে এবং ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এ তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির (১ম থেকে ৯ম গ্রেড) ৬৮ হাজার ৮৮৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণির (১০ম থেকে ১২তম গ্রেড) ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি, ১৩তম থেকে ১৬তম গ্রেডে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি এবং ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেডে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি পদ খালি রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য আরও ৮ হাজার ১৩৬টি পদ শূন্য রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ধাপে ধাপে এসব পদে নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে। প্রায় ৫ লাখ কর্মচারী নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, মেধা, সততা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে ৯৩ শতাংশ নিয়োগ মেধার ভিত্তিতে হচ্ছে। বাকি ৭ শতাংশ কোটা হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে, যার মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা, ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং ১ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য নির্ধারিত।

সংসদ সদস্য হারুন-অর-রশিদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিসিএস পরীক্ষায় মুখস্থ নির্ভরতা কমাতে সিলেবাস পরিবর্তনের কাজ চলমান রয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা বিভিন্ন দেশের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার পদ্ধতি পর্যালোচনা করছে। পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর জ্ঞান ও মানসিকতা যাচাইয়ে যোগ্যতাভিত্তিক সাক্ষাৎকার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এক বছরের মধ্যে একটি বিসিএস সম্পন্ন করার প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ১৬ বছরে বিসিএস প্রশাসনে ১২ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর, ৩৯ জনকে বরখাস্ত এবং ৫৬৪ জনকে বিশেষ দায়িত্বে সংযুক্ত করা হয়েছে। নিয়োগে দুর্নীতি ও দলীয়করণের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495