ফ্লাইওভারে ছাত্রলীগ নেতার ঝুলন্ত লাশ, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কী জানাল পুলিশ
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম
চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থানার সাগরিকা স্টেডিয়ামসংলগ্ন ফ্লাইওভার থেকে উদ্ধার হওয়া আবু কাউসার (২৭) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহের ঘটনায় আত্মহত্যার প্রাথমিক আলামত পেয়েছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও ময়নাতদন্তের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তবে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পশ্চিম বিভাগের উপকমিশনার মো. আলমগীর হোসেন জানান, সাগরিকা ফ্লাইওভারের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাত দেড়টার দিকে আবু কাউসার একাই ফ্লাইওভারে ওঠেন। পরে ফ্লাইওভারের মাঝামাঝি একটি পিলারের কাছে গলায় ফাঁস দেন তিনি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আবু কাউসারের বিরুদ্ধে দস্যুতা ও চাঁদাবাজিসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও ছিল। জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
ডিসি মো. আলমগীর হোসেন আরও বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবু কাউসার দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। পাশাপাশি তার মাদকাসক্তির তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে ময়নাতদন্ত না করার অনুরোধ জানানো হলেও আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে তা সম্পন্ন করা হয়েছে। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে সোমবার রাতে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে পাহাড়তলী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহত আবু কাউসার চট্টগ্রাম নগরের পশ্চিম ফিরোজশাহ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বিএসআরএম কারখানায় নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির কয়েকজন সাবেক নেতা।
পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল আবছার বলেন, মরদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যদের তথ্য ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। তবে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে।
এদিকে, বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম মহানগরের কয়েকজন সাবেক নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। যদিও পুলিশ বলছে, নিহতের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।