পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণে দেখা যাবে রক্তিম চাঁদ
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২০ পিএম
পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে অবস্থান নেয়, তখন সূর্যের সরাসরি আলো চাঁদের ওপর পড়তে পারে না। এ সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে সূর্যের আলোর একটি অংশ প্রতিসারিত হয়ে চাঁদের অন্ধকার অংশে পৌঁছায়। বায়ুমণ্ডল নীল রঙের স্বল্প তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো বেশি বিচ্ছুরিত করে এবং লাল রঙের দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো চাঁদের দিকে পাঠিয়ে দেয়। ফলে গ্রহণের সময় চাঁদকে তামাটে বা লালচে দেখায়।
নাসা–এর তথ্য অনুযায়ী, সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয়ের সময় আকাশ লাল দেখানোর পেছনেও একই বৈজ্ঞানিক কারণ কাজ করে।
২০২৬ সালের এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ বিশ্বের বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে দেখা যাবে। এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে প্রায় ১২ থেকে ১৩ মিনিট স্থায়ী হবে গ্রহণের পূর্ণ পর্যায়। সন্ধ্যা ৫টা ৩৩ মিনিটে সর্বোচ্চ গ্রহণ লক্ষ্য করা যাবে। উত্তর ও মধ্য আমেরিকায় ভোরবেলায় দৃশ্যটি সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যাবে। অন্যদিকে পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াজুড়ে সন্ধ্যায় আকাশে ভেসে উঠবে লালচে চাঁদ।
চন্দ্রগ্রহণ দেখার জন্য সূর্যগ্রহণের মতো বিশেষ চোখের সুরক্ষার প্রয়োজন হয় না। খালি চোখেই এটি সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে দেখা যায়। তবে সাধারণ দূরবীন বা দূরদর্শী যন্ত্র ব্যবহার করলে চাঁদের পৃষ্ঠের পরিবর্তন আরও স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব। শহরের কৃত্রিম আলোর বাইরে, যেখানে আলোক দূষণ কম, সেখান থেকে রক্তিম আভা সবচেয়ে ভালোভাবে উপভোগ করা যাবে।
পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ সাধারণত তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথমে হালকা ছায়া পর্যায়ে চাঁদ পৃথিবীর হালকা ছায়ায় প্রবেশ করে, ফলে তার উজ্জ্বলতা কিছুটা কমে যায়। এরপর আংশিক গ্রহণ শুরু হয়, যখন চাঁদ পৃথিবীর গভীর ছায়ায় ঢুকতে থাকে। সর্বশেষ পূর্ণগ্রাস পর্যায়ে চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর ছায়ায় ঢেকে গিয়ে ধারণ করে লালচে রং।