মসজিদে হামলায় নিজের জীবন দিয়ে শতাধিক মানুষ বাঁচালেন ‘বীর’ আবদুল্লাহ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১০:৫২ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোর একটি মসজিদে বন্দুক হামলায় নিজের জীবন উৎসর্গ করে বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা করেছেন নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহ। পুলিশ ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় তাকে ‘বীর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
বুধবার (২০ মে) ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে হামলায় আমিন আবদুল্লাহসহ তিন মুসল্লি নিহত হন। হামলার পর দুই কিশোর হামলাকারী আত্মহত্যা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা মসজিদের প্রবেশপথে পৌঁছানোর সময় আমিন আবদুল্লাহ তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। পাল্টা গুলিতে তিনি নিহত হন। তবে মৃত্যুর আগে তিনি জরুরি লকডাউন ব্যবস্থা চালু করতে সক্ষম হন, যার ফলে ইসলামিক সেন্টারের সঙ্গে থাকা স্কুলের প্রায় ১৪০ শিশুসহ বহু মানুষের জীবন রক্ষা পায়।
সান ডিয়েগো পুলিশের প্রধান স্কট ওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “তার কাজ নিঃসন্দেহে বীরত্বপূর্ণ ছিল। তিনি বহু মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন।”
নিহত অপর দুইজন হলেন- মনসুর কাজিহা এবং নাদের আওয়াদ। কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস–সান ডিয়েগো জানিয়েছে, তারা দুজনই মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ছিলেন।
আমিন আবদুল্লাহ ছিলেন আট সন্তানের জনক। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানান, তিনি দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মসজিদে দায়িত্ব পালন করতেন এবং সবাই তাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই তাকে সদালাপী ও সহানুভূতিশীল মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন।
কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস–সান ডিয়েগোর মুখপাত্র তাজহীন নিজাম বলেন, “তিনি প্রতিদিন হাসিমুখে মানুষকে স্বাগত জানাতেন, শিশুদেরও খুব ভালোবাসতেন। তিনি সত্যিকারের একজন বীর।”
এদিকে পুলিশ ঘটনাটিকে ‘ঘৃণাজনিত অপরাধ’ হিসেবে তদন্ত করছে। তদন্তকারীরা সন্দেহভাজনদের সঙ্গে সম্পর্কিত তিনটি বাড়ি থেকে ৩০টিরও বেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং একটি ক্রসবো উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি ধর্মীয় ও বর্ণবাদী মতাদর্শসম্পন্ন কিছু নথিও জব্দ করা হয়েছে।
সান ডিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়া বলেন, “এই হামলাকারীরা আমাদের শহরের পরিচয় নয়। বরং নিহত এই তিন মুসলিমই আমাদের প্রকৃত মানবিক পরিচয় তুলে ধরেন।”
এদিকে নিহতদের পরিবারের সহায়তায় অনলাইনে চালু করা তহবিলে ইতোমধ্যে প্রায় ২.৯ মিলিয়ন ডলার অনুদান সংগ্রহ হয়েছে।