নতুন পে-স্কেলে বেতন বাড়তে পারে দ্বিগুণ, বাস্তবায়নে তিন ধাপের পরিকল্পনা
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ১১:২৯ পিএম
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে জোর প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের জন্য ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার সংস্থান রাখা হতে পারে।
যদিও এ বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবুও নতুন পে-স্কেল ঘিরে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছরের ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় এটি একবারে নয়, বরং তিন ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা করছে সরকার।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল বেতনের প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হতে পারে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি বেতন সমন্বয় করা হবে। আর তৃতীয় ধাপে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতা নতুন কাঠামোর আওতায় আনা হতে পারে।
নতুন পে-স্কেলে বর্তমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান ১:৯ দশমিক ৪ থেকে কমিয়ে ১:৮-এ নামিয়ে আনার প্রস্তাবও রয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন গ্রেডে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য নতুন যাতায়াত ভাতা চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
নতুন পে-স্কেলের সুবিধা শুধু কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীও এর সুফল পেতে পারেন। বিশেষ করে কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের আর্থিক সুবিধা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে।
এদিকে বর্তমানে চালু থাকা ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ের কমিটি কাজ করছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আর্থিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটতে পারে।