পুলিশের হামলার প্রতিবাদে শাহবাগ অবরোধ, যানচলাচল বন্ধ
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম
শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধের ফলে শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড়ে পৌঁছে সড়ক অবরোধ করে। এ সময় আন্দোলনকারীরা ‘হাদি তোমায় দেখা যায়’, ‘বাংলাদেশের জনগণ নেমে আসুন’সহ বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন। অবরোধের কারণে শাহবাগ দিয়ে চলাচলকারী সব ধরনের যানবাহন আটকে পড়ে, ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগের ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল সংলগ্ন সড়ক থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এ সময় পুলিশ ছররা গুলিও ছুড়েছে। সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হন বলে দাবি করা হয়। এ ছাড়া ডাকসুর ফাতেমা তাসনিম জুমা, জকসুর শান্তা আক্তার, রাকসুর সালাউদ্দিন আম্মারসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিকেলে নিষিদ্ধ ঘোষিত যমুনা এলাকায় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের গুলি বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা চলছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহতদের শরীরে গুলির আঘাতের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে সরকার জানিয়েছে, শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত চেয়ে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে। বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগও সরকার নাকচ করেছে।
সরকার দেশবাসীকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সফল করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।