ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই বিচ্ছিন্ন করা হয় মাথা
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে তার ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্যান্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা করা হয়।
এই নৃশংস ঘটনায় পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার (২৬)-কে মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নেওয়ার জন্য শিশুটিকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে তিনি বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন। সন্দেহ হলে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিলে ভেতর থেকে দরজা আটকানো পাওয়া যায়। পরে এলাকাবাসী দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান। এ সময় মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়, তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলেই পাওয়া যায়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে অভিযুক্তের অনৈতিক ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। পরে রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুমের চেষ্টা করা হয়।
তিনি আরও জানান, মরদেহ লুকানোর উদ্দেশ্যেই মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং হাত কেটে ফেলার চেষ্টাও করা হয়। তবে শিশুটির মায়ের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, ধর্ষণের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহ গুমের পরিকল্পনা করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, সোহেল রানার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার স্বপ্না আক্তারের বরাতে পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি মানসিকভাবে বিকৃত আচরণ করতেন এবং স্ত্রীকেও নির্যাতন করতেন।
ঘটনার পর সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকা থেকে এবং তার স্ত্রীকে মিরপুর ১১ নম্বর এলাকার একটি ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।