শিক্ষকদের অপমানে দশম শ্রেণির ছাত্রীর আত্মহত্যা, উত্তাল রাজধানীর ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজ
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
রাজধানীর দনিয়ায় অবস্থিত ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষকদের মানসিক নির্যাতন ও অপমান সহ্য করতে না পেরে ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম সাবিকুন নাহার। বুধবার বিকেলে বিদ্যালয় থেকে বাসায় ফিরে স্কুলের পোশাক পরা অবস্থায় সে আত্মহত্যা করে বলে জানা গেছে।
সহপাঠী ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের মহাপরিচালক মাসুদ হাসান লিটন এবং শিক্ষিকা মাহমুদা আক্তার, সানজিদা বেগম ও রিফাত আরা তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন ও অপমান করেন। তাদের এমন আচরণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সাবিকুন নাহার আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করে। কয়েকশ শিক্ষার্থী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে মহাপরিচালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, সামান্য কারণেই শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ডেকে এনে সবার সামনে অপমান করা হতো। মহাপরিচালকের আচরণে বহু শিক্ষার্থী ও অভিভাবক ক্ষুব্ধ ছিলেন বলেও তারা জানান। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মারধর এবং ছাড়পত্র দেওয়ার হুমকির অভিযোগও উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাক্ষিক পরীক্ষায় ফল খারাপ হওয়ায় প্রথমে কয়েকজন শিক্ষিকা এবং পরে মহাপরিচালক অন্য শিক্ষার্থীদের সামনে সাবিকুন নাহারকে অপমান করেন। এরপর বাসায় ফিরে সে আত্মহত্যা করে।
অন্যদিকে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মহাপরিচালক মাসুদ হাসান লিটন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ছাত্রীর আত্মহত্যার খবর শুনেছেন, তবে তার বা শিক্ষিকাদের মানসিক নির্যাতনের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে—এ দাবি তিনি মানতে নারাজ।
ঘটনার পর অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিদ্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সন্তানদের নিতে অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ে ভিড় করেন, অনেকেই সন্তানদের খুঁজে না পেয়ে উৎকণ্ঠায় পড়েন।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।