ঢাকা মেডিকেলে শিক্ষার্থী-চিকিৎসক সংঘর্ষ: ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩০ এএম
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে আগামী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া, জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত ১০টা ৫ মিনিটে ঢামেক হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এ বিষয়ে জানান।
ঘটনার বিস্তারিত জানানো হয়েছে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা জেনারেল সার্জারি বিভাগের একজন চিকিৎসক ওই শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার পর বাইরের দোকান থেকে ‘নেলবান’ নামের একটি ইনজেকশন আনার পরামর্শ দেন, যা হাসপাতালের কাছে ছিল না। শিক্ষার্থীর সহপাঠীরা ইনজেকশনটি কিনতে বাইরে গিয়ে কোথাও তা না পেয়ে, পুনরায় হাসপাতলে ফিরে এসে চিকিৎসকের কাছে জানতে চান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে হাতাহাতিতে পরিণত হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে গেলে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়।
এ ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান নেন এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালের ভেতরে অবস্থান নেন। কিছুক্ষণের মধ্যে কেচি গেট তালাবদ্ধ করা হয়।
ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, চিকিৎসক যে ইনজেকশনটি পরামর্শ দিয়েছেন তা প্যাসিডিন জাতীয়। তার ধারণা, সম্ভবত এ কারণেই ঔষধ বিক্রেতারা সেটি দিতে চাননি। সাধারণত এই ধরনের ইনজেকশন বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যায়। চিকিৎসকদের ওপর হামলার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের একটি অংশ জরুরি বিভাগের গেট ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তিনি আরও জানান, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি বিভাগের প্রধান গেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর চিকিৎসা নিয়ে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী শনিবার প্রতিবেদন জমা দেবে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি ডাইরেক্টর, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রতিনিধি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর, এবং রমনা বিভাগের ডিসি রয়েছেন।