শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমার ইবাদতখানা: শিক্ষামন্ত্রী
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৯ পিএম
শিক্ষাখাতের অবনতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিজের ‘ইবাদতখানা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের অবহেলা ও সদিচ্ছার অভাবেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসাত্মক অবস্থায় পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার বরিশাল শিল্পকলা মিলনায়তনে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড বরিশাল-এর আয়োজনে কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। পরে বরিশাল সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাখাতের বর্তমান অবস্থার জন্য ছাত্র, শিক্ষক বা অভিভাবক দায়ী নন; বরং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ব্যর্থতার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
নকল প্রতিরোধে সরকারের অবস্থান কঠোর উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নকল দমন করতে অনেক আগেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন নকলের ধরন বদলেছে, তাই আমাদের কৌশলও পরিবর্তন করতে হবে।” তিনি জানান, ভবিষ্যতে অভিন্ন প্রশ্নপত্রের ভিত্তিতে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকার মানসম্মত শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়াতে আগামী বাজেটে জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পাবলিক পরীক্ষাগুলো সারা দেশে একক প্রশ্নপত্রে নেওয়া হবে এবং এমসিকিউ পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হবে। শিক্ষকদের মতামত জানতে তিনি সারাদেশে সফর করছেন বলেও উল্লেখ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করা সম্ভব হবে। এছাড়া প্রতিটি বিভাগে একটি করে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হবে।
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সুষ্ঠু আয়োজন এবং খাতা মূল্যায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী। এছাড়া বিভিন্ন প্রশাসনিক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে লঞ্চযোগে বরিশালে পৌঁছান শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন।