বিয়ের পর টানা ৩ দিন টয়লেটে যাওয়া নিষেধ নব-দম্পতিদের!

মফস্বল সংবাদ ডেস্কক

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৮ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

বিয়ে শুধু সামাজিক বন্ধন নয়, এটি ঘিরে বিভিন্ন দেশের নানা অদ্ভুত রীতি প্রচলিত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিদোং নৃগোষ্ঠীর মধ্যে এক বিস্ময়কর বিয়ের প্রথা রয়েছে, যেখানে নবদম্পতিকে বিয়ের পর তিন দিন বা ৭২ ঘণ্টা টয়লেট ব্যবহার না করার নিয়ম মানতে হয়।

মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপ অঞ্চলে বসবাসকারী তিদোং জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস, এই তিনদিন টয়লেট ব্যবহার না করলে দাম্পত্য জীবন হয় দীর্ঘস্থায়ী, শান্তিপূর্ণ এবং কলহমুক্ত।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নবদম্পতিকে একটি নির্দিষ্ট ঘরে রাখা হয়। এই সময় তারা ঘরের বাইরে যেতে পারে না, কোনো শারীরিক পরিশ্রম করতে পারবে না এবং সবচেয়ে কঠোরভাবে টয়লেট ব্যবহার নিষিদ্ধ। খাদ্য ও পানীয়ও সীমিত রাখা হয়, যাতে শারীরিক চাপ কম হয়। আত্মীয়স্বজন সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখেন, যাতে কেউ নিয়ম ভঙ্গ না করে।

তিদোং সমাজে বিবাহকে শুধুমাত্র দু’জন মানুষের সম্পর্ক নয়, বরং দুটি পরিবার বা পুরো সম্প্রদায়ের বন্ধনের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। তারা বিশ্বাস করেন, এই নিয়ম ভঙ্গ করলে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি, দুর্ভাগ্য বা বিচ্ছেদের আশঙ্কা থাকে। যারা সফলভাবে তিন দিন পার করেন, তাদের সংসারকে আশীর্বাদপুষ্ট মনে করা হয়।

নৃগবেষকরা বলছেন, এই প্রথার ইতিহাস কয়েকশ বছর পুরোনো। একসময় বিয়ে ছিল পারিবারিক জোটের প্রতীক এবং সম্পর্ককে পবিত্র রাখার জন্য নানা শপথমূলক আচার চালু হয়েছিল।

তবে স্বাস্থ্যঝুঁকি অস্বীকার করা যায় না। চিকিৎসাবিজ্ঞানে দীর্ঘ সময় প্রস্রাব বা মলত্যাগ দেরি করা ক্ষতিকর। তাই আধুনিক সময়ে অনেক তিদোং পরিবার নিয়মটি শিথিলভাবে পালন করছে; কেউ প্রতীকীভাবে অল্প সময় মেনে চলে, আবার প্রয়োজনে টয়লেট ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।

তিদোং সমাজে এই ৭২ ঘণ্টার নিয়মকে নতুন জীবনের প্রতীকী সূচনা হিসেবে দেখা হয়। এটি নবদম্পতির ধৈর্য, সহনশীলতা ও মানসিক দৃঢ়তার পরীক্ষা হিসেবেও মূল্যায়িত। আধুনিক সমাজের কাছে রীতিটি অদ্ভুত মনে হলেও, তিদোং জনগোষ্ঠীর জন্য এটি তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও পূর্বপুরুষের ঐতিহ্যের অংশ।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495