লোকসান সত্ত্বেও আলু চাষে ফিরছেন উত্তরবঙ্গের কৃষকরা
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫২ এএম
উত্তরবঙ্গের কৃষকরা গত বছরের বড় ক্ষতির পরও ২০২৬ সালে আলু চাষে ফিরছেন। ঋণ, নগদ অর্থের প্রয়োজন এবং পারিবারিক অভ্যাস তাদের বাধ্য করছে এই ফসলের দিকে। লোকসান সত্ত্বেও আলু এখন শুধু একটি ফসল নয় এটি কৃষকের টিকে থাকার মাধ্যম।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪–২৫ মৌসুমে দেশে আলুর উৎপাদন ছিল প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ মেট্রিক টন যা আগের বছরের তুলনায় ৮–৯ শতাংশ বেশি। উৎপাদনের বড় অংশ আসে রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চল থেকে।
আলু চাষের এলাকা এবং উৎপাদন বেড়েছে কিন্তু বাজারে সেই তুলনায় দাম মিলছে না। মাঠ পর্যায়ে আলুর দাম নেমে এসেছে কেজিপ্রতি ৯–১৩ টাকায় আর খুচরা বাজারে দাম হয়েছে ১৫–২০ টাকা।
অন্যদিকে উৎপাদন খরচ কমপক্ষে ১৫–১৭ টাকা প্রতি কেজি, কোল্ড স্টোরেজ ও পরিবহন খরচ যোগ করলে তা দাঁড়ায় ২০–২৫ টাকা। ফলে কৃষকরা উৎপাদন খরচ তুলতেও ব্যর্থ হচ্ছেন।
কৃষক আব্দুর গাফফার জানান, আলু চাষ তাদের পরিবারের ঐতিহ্য। বাবা দাদার চাষের অভিজ্ঞতা ও মাটির উপযোগিতার কারণে লোকসান সত্ত্বেও তারা অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকছেন না।
অন্যদিকে আলু ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান জানান এবার উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে দাম ধরে রাখা যাচ্ছে না। স্টোরেজের অভাব ও পচনের ঝুঁকি ব্যবসায়ীর ক্ষতি বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, ন্যূনতম দাম ও বাজার সমন্বয় নিশ্চিত করা না হলে কৃষক ও ব্যবসায়ী উভয়ই ক্ষতির মুখে পড়বেন।
কৃষি কর্মকর্তা পরিমল সরকার জানান, কৃষকরা লসের পরও আলু চাষে ফিরছেন কারণ এটি পারিবারিক অভ্যাস, মাটির উপযোগিতা এবং নগদ অর্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, কৃষকদের ন্যায্য দামে আলু বিক্রি করতে ন্যূনতম মূল্য, স্টোরেজ সুবিধা বৃদ্ধি ও রপ্তানি ব্যবস্থা জরুরি। এছাড়া তারা নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার মাধ্যমে দক্ষ চাষ নিশ্চিত করতে চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে স্থিতিশীলতা আনার জন্য উৎপাদন ও সরবরাহের মধ্যে সমন্বয় জরুরি। ন্যূনতম দাম নিশ্চিত করা, সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং কৃষকের অংশগ্রহণ বাড়ানো না হলে আলু চাষে এই লোকসানের চক্র থামবে না।
তবুও বাস্তবতা হলো লোকসান, ঋণ ও অনিশ্চয়তার মাঝেও ২০২৬ সালেও উত্তরবঙ্গের অনেক কৃষক আলুর পথেই হাঁটছে, কারণ তাদের সামনে এখনো কোনো স্থায়ী বিকল্প নেই।
শামিম
শিক্ষার্থী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর